জীবন বাচাতে ঢাকায় যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল, তবে শেষ রক্ষা হলো না

যাযাদি অনলাইন

সারাদেশ

নেত্রকোনার সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরকে হত্যার ঘটনায় সীমান্তের অপরাধচক্র, আগের হামলা এবং সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের যোগাযোগের যোগসূত্র খতিয়ে দেখছে পুলিশ। সীমান্তে

2026-10-26T18:54:49+06:00
2026-10-26T18:54:49+06:00
মঙ্গলবার ● ২৭ অক্টোবর ২০২৬
১১ কার্তিক ১৪৩৩
শিরোনাম:
সারাদেশ
ছয় গুলিতে প্রাণ যায় সাংবাদিক আলিফের
জীবন বাচাতে ঢাকায় যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল, তবে শেষ রক্ষা হলো না
যাযাদি অনলাইন
প্রকাশ: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৫৪ পিএম  
নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির । ছবি: সংগৃহীত
নেত্রকোনার সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরকে হত্যার ঘটনায় সীমান্তের অপরাধচক্র, আগের হামলা এবং সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের যোগাযোগের যোগসূত্র খতিয়ে দেখছে পুলিশ। সীমান্তে চোরাচালান, মাদক, অস্ত্র ও স্থানীয় অনিয়ম নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করতেন আলিফ। পরিবার ও পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এর আগে তাকে দুই দফা হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল। সর্বশেষ ১৫ অক্টোবর রাতে দুর্গাপুর উপজেলার তেলনজিয়া গ্রামে শ্বশুরবাড়ির কাছেই তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। মাথা, গলা ও বুকে ছয়টি গুলির আঘাত পান তিনি।

আলিফের হত্যাকাণ্ডে সন্দেহভাজন হিসেবে তাজুল ইসলাম (৪৮) ও শামীম আহমেদ ওরফে ‘শুটার শামীম’ (৩২) নামের দুজনের ভূমিকা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, হত্যার পরিকল্পনা, অর্থায়ন এবং হামলাকারীদের সঙ্গে তাদের যোগাযোগের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে হত্যার কারণ ও জড়িত ব্যক্তিদের ভূমিকা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া বাকি।

আঞ্চলিক মহাসড়ক থেকে ইট বিছানো রাস্তা ধরে মিনিট তিনেক এগোলেই রবিন রাংসার চায়ের দোকান। ১৫ অক্টোবর রাত সাড়ে আটটার দিকে এই দোকানের কাছেই গুলিবিদ্ধ হন আলিফ। ঘটনার সময় দোকানে ছিলেন রবিন। তিনি জানান, রাত আটটার দিকে আলিফ তার দোকান থেকে ছয়টি সিগারেট কেনেন। টেবিলে বসে একটি সিগারেট খেয়ে শ্বশুরবাড়ির দিকে যাওয়ার সময় ভুলে মুঠোফোনটি রেখে যান। কিছুক্ষণ পর ফোন নিতে ফিরে এসে আবার রওনা দেন। এর পরপরই গুলির শব্দ শোনেন রবিন।

রবিনের ভাষ্য, তখন তিনি চায়ের কাপ ধুচ্ছিলেন। গুলির শব্দ শুনে তাকিয়ে দেখেন, আলিফ মাটিতে পড়ে আছেন এবং সেখানে দুজন অপরিচিত ব্যক্তি রয়েছেন। ভয়ে তিনি দোকানের পেছনে নিজের বাসায় ঢুকে যান। তার দাবি, ওই দুজনকে আগে কখনো দেখেননি। আলিফের সঙ্গে দেখা করতে বিভিন্ন জায়গা থেকে মানুষ আসতেন এবং তাদের অনেকেই দোকানে বসতেন।

আলিফের বাড়ি নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের সুনই গ্রামে। তিনি আইপি টেলিভিশন চ্যানেল রূপসী বাংলার নেত্রকোনা প্রতিনিধি ছিলেন। পাশাপাশি ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামে একটি ফেসবুক পেজ পরিচালনা করতেন। সেখানে সীমান্তের চোরাচালান, মাদক, অস্ত্র এবং স্থানীয় অন্যায়-অনিয়ম নিয়ে ছবি ও ভিডিওসহ তথ্য প্রকাশ করতেন।

আলিফের শ্বশুরবাড়ি দুর্গাপুর উপজেলার বিরিশিরি ইউনিয়নের তেলনজিয়া গ্রামে। নিরাপত্তার আশঙ্কায় তিনি স্ত্রী ও দুই শিশুসন্তানকে নিয়ে সেখানে থাকতেন। তার স্ত্রী খাদিজা আক্তার জানান, গুলির শব্দ শুনে প্রথমে তিনি ভেবেছিলেন পটকা ফুটেছে। পরে প্রতিবেশীর কাছে স্বামীর গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর পেয়ে ছুটে যান। আলিফের মাথা কোলে তুলে হৃৎস্পন্দন পরীক্ষা করে তিনি বুঝতে পারেন, স্বামী আর বেচে নেই।

খাদিজা গারো সম্প্রদায়ের নারী। বিয়ের আগে তার নাম ছিল আনন্দিতা সাংমা। আলিফের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের পর বিয়ের সময় তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। স্বামীর মৃত্যুর পর দুই শিশুসন্তানকে নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তিনি।

আগামী নভেম্বরেই তাদের ঢাকায় যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। নার্সিংয়ে পড়াশোনা করা খাদিজার চাকরির চেষ্টা করার কথা ছিল সেখানে। নতুন করে জীবন শুরু করতে তার মা ৪০ হাজার টাকা ঋণ করেছিলেন। আলিফের মৃত্যুতে সেই পরিকল্পনা ভেঙে গেছে। ঋণের টাকাই এখন সংসার চালানোর তাৎক্ষণিক ভরসা বলে জানান খাদিজা।

নেত্রকোনার দুর্গাপুর ও কলমাকান্দা উপজেলার সঙ্গে ভারতের মেঘালয় সীমান্ত রয়েছে। এ সীমান্ত দিয়ে মাদক, চিনি, প্রসাধনসামগ্রী, কম্বল, গরু, যন্ত্রাংশ ও আগ্নেয়াস্ত্রসহ বিভিন্ন পণ্য চোরাচালানের অভিযোগ রয়েছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য, সীমান্তের একাংশের অবৈধ ব্যবসার সঙ্গে শামীমের নাম আলোচনায় আসে। অন্যদিকে তাজুলের বিরুদ্ধে একটি সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ন্ত্রণ এবং চাঁদাবাজি ও চোরাচালানসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

শামীম ও তাজুলের বিরুদ্ধে হত্যা, হত্যাচেষ্টা, অস্ত্র, মাদক, বিস্ফোরক, অপহরণ, চাদাবাজি, ডাকাতি ও চুরিসহ বিভিন্ন অভিযোগে মামলা রয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে দুর্গাপুর থানায় শামীমের বিরুদ্ধে অন্তত ২৫টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে ১১টিতে হত্যাচেষ্টার ধারা রয়েছে এবং ১৯টি মামলা চলমান বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাজুলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় অন্তত ১৩টি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। এসব মামলা বা অভিযোগের কোনোটিই নিজে থেকে অপরাধ প্রমাণ করে না।

শামীমের বিরুদ্ধে দুটি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগও রয়েছে। ২০২২ সালের ৮ অক্টোবর দুর্গাপুরের কুল্লাগড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সুব্রত সাংমা নিহত হওয়ার ঘটনায় তার বোন শামীমকে প্রধান আসামি করে মামলা করেন। ২০২৪ সালের চার ফেব্রুয়ারি বিরিশিরি ইউনিয়নের নলজোরা গ্রামের মজিবুর রহমান ওরফে ‘দা মজিবুর’ হত্যার ঘটনায়ও তার ছেলে শামীমকে প্রধান আসামি করা হয়।

আলিফের স্ত্রী খাদিজার দাবি, তাজুলের চোরাচালান ও অস্ত্রসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করে আলিফ র‍্যাবকে দিয়েছিলেন। প্রায় চার বছর আগে তাজুলকে র‍্যাব গ্রেপ্তার করেছিল বলেও জানান তিনি। দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমদের ভাষ্য, তাজুলের বাড়িঘরের ছবি ও ভিডিও আলিফ ফেসবুকে প্রকাশ করেছিলেন। তাজুল ধারণা করতেন, তার অস্ত্রের তথ্যও আলিফ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দিয়েছেন। এ নিয়ে ক্ষোভ থেকে আগে আলিফের ওপর হামলা হয়েছিল বলে জানান ওসি।

আলিফের লেখালেখিতে শামীমের নামও এসেছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, হত্যার প্রায় এক সপ্তাহ আগে শামীমের ইয়াবা সেবনের দৃশ্য বলে দাবি করা একটি ভিডিও প্রকাশ করেছিলেন আলিফ। ভিডিওটি প্রকাশের পর নতুন কোনো হুমকি এসেছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

হত্যার আগের দিন, ১৪ অক্টোবর, ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ পেজে আলিফ একটি পোস্ট দিয়ে পরদিন অপরাধে জড়িত একজন ‘গডফাদার’ সম্পর্কে তথ্যপ্রমাণ প্রকাশের ঘোষণা দেন। পরদিন ১৫ অক্টোবর সন্ধ্যা সাত টা ২৮ মিনিটে পেজটিতে ৪১ সেকেন্ডের একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়। ভিডিওতে নেত্রকোনায় রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনে বাবুল নামের একজনের ভূমিকা নিয়ে অভিযোগ তোলা হয়। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য, এই পোস্টগুলোর সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের তাৎক্ষণিক কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে।

পরিবারের অভিযোগ, আলিফকে লেখালেখি বন্ধ করতে হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি মামলা দিয়েও হয়রানি করা হয়েছিল। খাদিজার ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ মার্চ তৎকালীন পুলিশ সুপার ফয়েজ আহমেদকে নিয়ে আলিফ ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছিলেন। পরদিন আরও তথ্য প্রকাশের কথা ছিল। ওই দিন গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) পরিচয়ে তাকে আটক করা হয় বলে অভিযোগ পরিবারের।

খাদিজার অভিযোগ, আটকের পর আলিফকে মারধর করা হয়েছিল এবং তাকে হাসপাতালে নিতে হয়। তবে ফয়েজ আহমেদ প্রথম আলোর কাছে দাবি করেন, ঘটনাটি যেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, তা সঠিক নয়। তার বক্তব্য, আলিফকে সেদিন ধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের পাচ এপ্রিল কলমাকান্দা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে আলিফের বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়। তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ১১ এপ্রিল পুলিশ চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়। খাদিজার দাবি, লেখালেখির কারণে আলিফকে হয়রানি করতেই মামলাটি করা হয়েছিল। সীমান্তের চোরাচালান নিয়ে লেখার পর স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা অলি আহমেদও তার বিরুদ্ধে চাদাবাজির মামলা করেছিলেন বলে জানান তিনি।

কারাগারে থাকাকালে আলিফকে বিষ প্রয়োগ করে হত্যার চেষ্টা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেছেন খাদিজা। এ-সংক্রান্ত কথোপকথনের রেকর্ড আলিফের ফেসবুক পেজে প্রকাশ করা হয়েছিল বলে জানান তিনি। এ ছাড়া ‘রিভার্স’ নামের একটি ফেসবুক পেজে আলিফকে নিয়ে নেতিবাচক পোস্ট দেওয়া হতো। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, পেজটির বিরুদ্ধে সুনাম ক্ষুণ্ন করার অভিযোগে প্রায় দুই মাস আগে থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছিলেন আলিফ।

আলিফকে হত্যার আগের একটি ঘটনায় পুলিশের উপপরিদর্শক মো. শফিকুল ইসলাম নিহত হন। ২০২৫ সালের ৯ জানুয়ারি দুর্গাপুর পৌরসভার পানমহাল এলাকায় তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) নেত্রকোনার পরিদর্শক মো. ইমদাদুল বাশার প্রথম আলোকে বলেন, এ ঘটনায় গ্রেপ্তার সাজিবুল ইসলাম ওরফে অপূর্ব (২১) ও মো. বাকী বিল্লাহ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জানিয়েছিলেন, তাদের লক্ষ্য ছিলেন আলিফ। ভুল করে শফিকুলকে হত্যা করেন তারা। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, নির্দেশ দিয়েছিলেন তাজুল। অপূর্ব ও বাকী বিল্লাহ জামিনে ছিলেন এবং আলিফ হত্যা মামলাতেও তাদের সম্পৃক্ততা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এর প্রায় ১০ মাস পর, ২০২৫ সালের ১০ নভেম্বর সোমেশ্বরী নদীর তেরিবাজার ঘাট এলাকায় আলিফকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। তিনি প্রাণে বেচে যান। ওই ঘটনায় সামিউল হক ওরফে সৌরভ ও মো. ইমন মিয়ার নাম উল্লেখ করে মামলা করেছিলেন আলিফ। মামলাটিতে গত বছরের সেপ্টেম্বরে অভিযোগপত্র দেওয়া হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তারাও এবারের হত্যাকাণ্ডে জড়িত কি না, তা তদন্ত করছে পুলিশ।

২০২৫ সালের ৩০ নভেম্বর জেলা পুলিশ সুপারের সঙ্গে সাংবাদিকদের মতবিনিময় সভায় নিজের জীবনের ঝুকির কথা জানিয়েছিলেন আলিফ। অস্ত্রধারীরা তার জন্য অপেক্ষা করছে বলে খবর পাওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি গেলে গুলি করবে।’ সীমান্তের সশস্ত্র অপরাধীদের বিষয়ে তথ্য দেওয়ার পরও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেছিলেন তিনি।

দুর্গাপুর থানা-পুলিশের তালিকায় ২২ জনের নাম রয়েছে, যাদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, আলিফ হত্যা মামলায় ওই তালিকার ছয়জনের সম্পৃক্ততার তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন তাজুল ইসলাম, সাজিবুল ইসলাম ওরফে অপূর্ব, আশিকুর রহমান ওরফে প্রাঙ্গণ, সাব্বির হোসেন, বাকী বিল্লাহ এবং সামিউল হক ওরফে সৌরভ।

আলিফ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দুজন হলেন অপূর্ব ও আশিকুর রহমান ওরফে প্রাঙ্গণ। পুলিশের ভাষ্য, অপূর্ব তাজুলের সহযোগী এবং তাজুল ও তার সহযোগীদের কিছু অস্ত্র তার কাছে থাকত। প্রাঙ্গণ শামীমের সহযোগী বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। সূত্রটি আরও বলেছে, গুলির ঘটনার পর শামীমের সঙ্গে প্রাঙ্গণের যোগাযোগ হয়েছিল। তখন আলিফের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে কি না, তা জানার চেষ্টা করা হয় বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

হত্যার আগে ও পরে অন্তত দুটি সন্দেহজনক মোটরসাইকেলের গতিবিধি পর্যালোচনা করছেন তদন্তকারীরা। তাদের ধারণা, দোকানে দেখা দুই অপরিচিত ব্যক্তির বাইরে ঘটনাস্থল ও আশপাশে আরও লোক ছিল। পুলিশের ভাষ্য, হত্যাকাণ্ডে সাত থেকে আটজন অংশ নিয়ে থাকতে পারেন। ওসি খন্দকার শাকের আহমদ বলেন, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় তাজুলের মোটরসাইকেল চালাচ্ছিলেন ইমন। সৌরভ নামের আরেক সহযোগীও সেখানে ছিলেন। তাদের অবস্থান ও ভূমিকা যাচাই করা হচ্ছে। হত্যায় ব্যবহৃত গুলি ৯ মিলিমিটারের বলে পুলিশ সূত্র জানিয়েছে।

শামীম দুর্গাপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও কুল্লাগড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল আউয়ালের সৎভাই। শামীমের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সম্পর্কে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে আবদুল আউয়াল বলেন, শামীম গৃহস্থালি ও মাছের ব্যবসা করেন এবং আগে বালু-পাথরের ব্যবসা করেছেন। তার দাবি, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ শামীমের নামে বদনাম করছে। সীমান্তের চোরাচালান নিয়ন্ত্রণে তাদের পরিবারের নাম আসার অভিযোগও অস্বীকার করেন তিনি।

আলিফ হত্যার তদন্তে জেলা পুলিশের একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। অন্যান্য তদন্তকারী সংস্থাকেও যুক্ত করা হয়েছে। আলিফের মুঠোফোন ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) পাঠানো হয়েছে।

নেত্রকোনার পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের একটি দল সম্পর্কে পুলিশ ধারণা পেয়েছে। দলটিকে নিয়ন্ত্রণ করেন এমন ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দুজনকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। হত্যার দিন সিগারেট কেনার সময় আলিফ কারও সঙ্গে উত্তেজিত স্বরে কথা বলছিলেন কি না, সেই তথ্যও তদন্তে বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

পুলিশ সুপার আরও জানান, ১১ অক্টোবর আলিফ তার সঙ্গে দেখা করে অপরাধবিষয়ক একটি ‘বড় কাজ’ করার কথা জানিয়েছিলেন। সেই কাজটি কী ছিল এবং হত্যার পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা অনুসন্ধান করছে পুলিশ। পুলিশের ময়মনসিংহ রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক মোহাম্মদ জাহিদুল হাসানও বলেছেন, তদন্ত অনেক দূর এগিয়েছে এবং শিগগিরই বিস্তারিত প্রকাশ করা হবে।

আলিফের শ্বশুরবাড়ির স্বজনেরা তাকে পরিবারের সদস্য হিসেবেই দেখতেন। তার শাশুড়ি শিলা সাংমা বলেন, ‘সে আমার ছেলে ছিল। এত ভালো মানুষ হয় না।’ অন্যদিকে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন জনউদ্যোগের আহ্বায়ক ও নেত্রকোনার মুক্তিযোদ্ধা ইউনিটের সাবেক জেলা কমান্ডার হায়দার জাহান চৌধুরী বলেন, আলিফকে যেভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে, তাতে তারা স্তম্ভিত। জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

আলিফের হত্যাকাণ্ডে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন, আগের হামলাগুলোর সঙ্গে ১৫ অক্টোবরের হত্যার যোগসূত্র কী এবং সীমান্তের অপরাধচক্রের কারা এতে জড়িত। তদন্তে উঠে আসা অভিযোগগুলোর সত্যতা ও প্রত্যেকের ভূমিকা নিশ্চিত করতে পুলিশি তদন্ত এবং আদালতের বিচারপ্রক্রিয়াই এখন নির্ধারক।


তথ্য সূত্র: যাযাদি & প্রথম আলো
সারাদেশ- এর আরোও খরব 
সম্পাদক ও প্রকাশক : শফিক রেহমান
অফিস:
যায়যায়দিন মিডিয়াপ্লেক্স
৪৪৬ ই+এফ+জি, লাভ রোড, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল, ঢাকা ১২০৮
ইমেইল : [email protected]
বিভাগীয় ফোন:
অনলাইন নিউজ- ০১৩৩৫১০৭৭০১, ০১৫৭২১৭৩৭৭৭
বিজ্ঞাপন বিভাগ- ০১৯১২২৯২৩১৩, ০১৭১১১৭৫৩৩১
সার্কুলেশন বিভাগ- ০১৭১২৩৮০৩২৫, ০১৮৩৪৮০০৮৭৭
© ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত