ছবি: যাযাদিহাসপাতালে অব্যবস্থাপনা, কর্মস্থলে চিকিৎসকদের অনুপস্থিতি ও রোগীদের ভোগান্তি কমাতে স্বাস্থ্য খাতে অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা বলে আসছেন স্বাস্থ্য মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল। বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে আকস্মিক পরিদর্শন করে অনিয়ম শনাক্ত এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগও নিয়েছেন তিনি। তবে এসব পদক্ষেপ ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে চিকিৎসকদের একটি অংশের মধ্যে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাজধানীর বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট পরিদর্শনে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজেই অব্যবস্থাপনার চিত্র দেখতে পান। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের তথ্য অনুযায়ী, নিজের কক্ষে ধূমপান করতে দেখা যায় সহযোগী অধ্যাপক রফিকুল ইসলামকে। কক্ষের অপরিচ্ছন্নতা দেখেও অসন্তোষ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে তার নির্দেশে ওই চিকিৎসককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
প্রধান মন্ত্রীর এ পদক্ষেপের পর স্বাস্থ্য খাতে অনিয়মের বিরুদ্ধে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আগের উদ্যোগগুলোও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সরকারি হাসপাতালে দায়িত্বে অবহেলা ও অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি এখন সরকারের জবাবদিহি এবং জনস্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করার বৃহত্তর প্রশ্নের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।
এর আগে গত ৭ মার্চ নরসিংদীর পলাশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে গিয়ে নির্ধারিত সময়ে চিকিৎসকদের উপস্থিতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। পরে ২৬ জুলাই সাতক্ষীরার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতাল পরিদর্শন করে অনুমতি ছাড়া অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে দুই চিকিৎসককে সাময়িক বরখাস্তের নির্দেশ দেন তিনি। এসব পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে সরকারি দায়িত্বে অবহেলার ক্ষেত্রে জবাবদিহি নিশ্চিত করার অবস্থান তুলে ধরেন স্বাস্থ্য মন্ত্রী।
এদিকে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিতসহ সংশ্লিষ্ট মহলে সমালোচনা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি প্রতিমন্ত্রী তাঁর বিভিন্ন বক্তব্যে সরকারের নীতিনির্ধারকদের হাসপাতালে প্রবেশ ও পরিদর্শন নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে চিকিৎসকদের একটি অংশের সমালোচনাকে পুরো চিকিৎসক সমাজের অবস্থান হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। একইভাবে, স্বাস্থ্য খাতে অনিয়মের বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে নির্ভরযোগ্য তথ্য ও প্রমাণের প্রয়োজন রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক পদক্ষেপ থেকে সরকারের উচ্চপর্যায়ে হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা ও দায়িত্বে অবহেলার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে বলে প্রতীয়মান হয়। তবে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আগের পদক্ষেপগুলো প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে নেওয়া হয়েছিল কি না, তা নিশ্চিত করার মতো তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই। চিকিৎসকদের মধ্যে কোনো সংগঠিত গোষ্ঠী এসব উদ্যোগে বাধা দিচ্ছে কি না, সেটিও নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে অনুসন্ধান করা প্রয়োজন।
হাসপাতালে চিকিৎসক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখা, ওষুধ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং রোগীদের যথাযথ সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে সরকার কতটা কার্যকর ও ধারাবাহিক ব্যবস্থা নিতে পারে, এখন সেটিই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
কারণ, হাসপাতাল পরিদর্শন কিংবা সাময়িক বরখাস্তের মতো তাৎক্ষণিক পদক্ষেপই শেষ কথা নয়। সরকারি হাসপাতালে সাধারণ মানুষ সময়মতো চিকিৎসা পাচ্ছেন কি না এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে নেওয়া ব্যবস্থা দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর থাকছে কি না, তার ওপরই এসব উদ্যোগের প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে।