প্রকাশ: রোববার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৫৭ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
বৈশ্বিক সাইবার নিরাপত্তা সতর্কতার কারণে আগেই সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হলেও সাইবার হামলার শিকার হয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকের ওয়েবসাইট। ওয়েবসাইটের অন্তত দুটি স্থানে স্প্যাম বা হামলার চিহ্ন শনাক্ত হওয়ার পর নিরাপত্তা পুনরুদ্ধার ও ত্রুটি সারাতে কাজ করছেন ব্যাংকটির তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) বিভাগের কর্মীরা। এ কারণে ছুটি শেষে ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরু হলেও রোববার (২৫ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ওয়েবসাইটটি সচল করা সম্ভব হয়নি।
জনতা ব্যাংকের আইটি বিভাগের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, ওয়েবসাইটের দুটি স্থানে হামলার আলামত পাওয়া গেছে। ত্রুটিগুলো শনাক্ত করে সেগুলো দূর করার কাজ চলছে। রোববারের মধ্যেই ওয়েবসাইটটি পুরোপুরি নিরাপদ করে আবার চালু করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন তাঁরা।
এদিকে ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) পদ শূন্য থাকায় এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এর আগে গত ১৯ অক্টোবর জনতা ব্যাংকের তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মজিবুর রহমানের নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করে সরকার। পরদিন থেকে দুর্গাপূজা ও সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে ব্যাংক খাতে টানা পাঁচ দিনের ছুটি শুরু হয়।
বিশ্বজুড়ে বহুল ব্যবহৃত প্রোগ্রামিং ভাষা পিএইচপি (PHP)-তে দুটি গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্ত হওয়ার পর বৈশ্বিক সাইবার হামলার আশঙ্কা তৈরি হয়। এ পরিস্থিতিতে গত ২১ অক্টোবর ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা এনিসা (ENISA) ও সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো যৌথ সতর্কতা জারি করে।
সতর্কবার্তায় বলা হয়, নিরাপত্তা ত্রুটিগুলো কাজে লাগিয়ে হ্যাকাররা আক্রান্ত সার্ভারে দূর থেকে ক্ষতিকর কোড চালাতে পারে। দ্রুত নিরাপত্তা প্যাচ বা হালনাগাদ দেওয়া সম্ভব না হলে ঝুঁকিপূর্ণ অ্যাপ্লিকেশনগুলো সাময়িকভাবে ইন্টারনেট থেকে বিচ্ছিন্ন রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।
এই সতর্কতার পর বাড়তি নিরাপত্তার অংশ হিসেবে গত বৃহস্পতিবার থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক ও জনতা ব্যাংকের ওয়েবসাইট সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল। ছুটি শেষে রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট আবার চালু হলেও জনতা ব্যাংকের ওয়েবসাইটে হামলার আলামত শনাক্ত হওয়ায় সেটি চালু করা যায়নি।
আইটি বিভাগের কর্মীরা ওয়েবসাইটের ত্রুটি শনাক্ত ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কাজ করছেন। তাঁদের আশা, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা সম্পন্ন হলে রোববারের মধ্যেই ওয়েবসাইটটি সচল করা সম্ভব হবে।
তবে হামলার উৎস, এর পেছনে কারা রয়েছে এবং ওয়েবসাইটের তথ্য বা ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থায় কোনো ক্ষতি হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ওয়েবসাইট বন্ধ থাকার কারণে গ্রাহকদের অনলাইন ব্যাংকিং বা অন্যান্য সেবায় কী ধরনের প্রভাব পড়েছে, সে বিষয়েও ব্যাংকটির আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।