মাদ্রাসায় শিশু ধর্ষণের ঘটনায়, ভুক্তভোগীর পরিবারের নামে ভাংচুর, লুটপাটের মামলা

আশুলিয়া প্রতিনিধি

সারাদেশ

আশুলিয়ায় একটি মহিলা মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ১৩ বছর বয়সী এক ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় প্রধান শিক্ষক পলাতক থাকলে, সহযোগিতার অভিযোগে

2026-10-25T11:27:19+06:00
2026-10-25T11:27:19+06:00
রোববার ● ২৫ অক্টোবর ২০২৬
৯ কার্তিক ১৪৩৩
শিরোনাম:
সারাদেশ
মাদ্রাসায় শিশু ধর্ষণের ঘটনায়, ভুক্তভোগীর পরিবারের নামে ভাংচুর, লুটপাটের মামলা
আশুলিয়া প্রতিনিধি
প্রকাশ: রোববার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:২৭ এএম  
ছবি-যাযাদি
আশুলিয়ায় একটি মহিলা মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ১৩ বছর বয়সী এক ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় প্রধান শিক্ষক পলাতক থাকলে, সহযোগিতার অভিযোগে স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এঘটনায় ভুক্তভোগী ছাত্রীর দাদা বাদি হয়ে মামলা করেন থানায়।

কিন্তু ঘটনার ১ দিন পর ওই ধর্ষণ মামলার বাদীসহ ৬ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরো ১০-১৫ জনের বিরুদ্ধে মাদ্রাসায় ভাংচুর, মারধর, লুটপাটের অভিযোগে মামলা করেছেন ওই পলাতক শিক্ষকের ছেলে মো. উমায়ের।

মো. উমায়েরের দায়ের করা মামলার এজহারে উল্লেখ করা হয়েছে, সাভার উপজেলার একটি ইউনিয়নে একটি মহিলা মাদ্রাসা রয়েছে অভিযোগকারীর পরিবারের। গত ১৭ সেপ্টেম্বর একই এলাকার আক্তার ওই মাদ্রাসা পরিচালনাকে কেন্দ্র করে ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত বুধবার সন্ধ্যা ৬ টার দিকে আক্তার, মনসুর, আব্দুর রহিম, সালমা, শাহ আলম, শাহাজউদ্দিন এবং অজ্ঞাতনামা আরো ১০-১৫ জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মাদ্রাসার সামনে জরো হন। পরে তাঁরা মাদ্রাসার ফটক ভেঙ্গে মাদ্রাসা ও বাসায় ভাংচুর চালান। একপর্যায়ে সালমা ও শাহ আলম লোহার রড দিয়ে ওমায়েরের মা ছালেমা তোহফার মাথায় আঘাত করলে ছোট ভাই জুবায়ের দ্রুত সরিয়ে নিলে আঘাতটি ছোট ভাইয়ের হাতে লাগে। এক পর্যায়ে মাদ্রাসার ছাত্রীদের রুমের ভেতর আটকে রেখে মাদ্রাসার অফিস কক্ষ ভাংচুর করা হয়। 

হামলাকারীরা আলমারির তালা ভেঙ্গে মাদ্রাসার নগদ ৪৭ লাখ টাকা নিয়ে যায়। এছাড়া মনসুর, আক্তার, আব্দুর রহিম ও সালমা বাসার আলমারি ও লকারের তালা ভেঙ্গে ছালেমা তোহফার ১২ ভরি সোনা, জমির দলিল, পাসপোর্ট, মাদ্রাসার স্থাপনার গুরুত্বপুর্ন কাগজপত্রসহ ঘরের বিভিন্ন আসবাবপত্র নিয়ে যায়। সবমিলিয়ে হামলাকারীরা ৭৭ লাখ টাকার ক্ষতি করে। একপর্যায়ে ছালেমা তোহফা এবং জুবায়েরের ডাক চিৎকার করলে হামলাকারীরা নানা রকমের ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়া চলে যান।

এদিকে গত বুধবার সন্ধ্যায় এ হামলা, ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হলেও একই দিন সকাল ১০ টার দিকে অভিযোগকারী বাবা মাদ্রাসার শিক্ষকের বিরুদ্ধে ওই মাদ্রাসার এক শিশুকে ধর্ষণ এবং মায়ের বিরুদ্ধে ধর্ষণে সহায়তার অভিযোগ উঠে। এঘটনায় বুধবার দিবাগত রাতে শিশুটির দাদার দায়ের করা ধর্ষণ মামলায় অভিযোগকারীর মাকে ধর্ষণের সহায়তার অভিযোগে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তবে ওই শিক্ষক পলাতক রয়েছেন।

যা ছিলো ধর্ষণ মামলার এজহারে: মামলার এজাহারের বিবরণ অনুযায়ী, ভুক্তভোগী শিশু অন্য ছাত্রীদের সঙ্গে মাদ্রাসার দ্বিতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে থাকে। অন্য একটি ফ্ল্যাটে থাকেন মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক (৫০) ও তাঁর স্ত্রী (৪০)। গত বুধবার সকাল ১০টার দিকে ভুক্তভোগী শিশুটি জুতা আনার জন্য দ্বিতীয় তলা থেকে নিচতলায় যায়। এ সময় শিশুটিকে একটি কক্ষে নিয়ে মুখ চেপে ধরে ধর্ষণ করেন ওই শিক্ষক।  ঘটনাটি কাউকে না বলার জন্য ছাত্রীকে হুমকি দেন শিক্ষকের স্ত্রী।

এজাহারে আরও বলা হয়, শিশুটি কক্ষ থেকে চলে যেতে চাইলে আবার তাকে ঘটনা কাউকে না বলতে হুমকি দেন ওই শিক্ষক। একপর্যায়ে মাদ্রাসার বাবুর্চি সেখানে উপস্থিত হলে স্ত্রীকে নিয়ে দ্বিতীয় তলায় চলে যান ওই শিক্ষক। এরপর ভুক্তভোগী শিশুটি মাদ্রাসা থেকে বাড়িতে চলে যায়। এ সময় সে কান্নাকাটি করলে পরিবারের সদস্যরা কারণ জানতে চান। একপর্যায়ে তাঁদের ঘটনাটি খুলে বলে সে। বিষয়টি জানার পর স্থানীয় লোকজনকে নিয়ে পরিবারের সদস্যরা মাদ্রাসায় এসে মাদ্রাসাশিক্ষকের স্ত্রীকে আটক করেন। কিন্তু তার আগেই কৌশলে ওই শিক্ষক মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে যান।

যা বলছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা: এদিকে গত বুধবারের ঘটনার সময় উপস্থিত কয়েক ব্যক্তি জানান, শিশু ধর্ষণের ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর সন্ধ্যার দিকে শিশুর পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা মাদ্রাসায় উপস্থিত হন। একপর্যায়ে তাঁরা ক্ষুব্ধ হয়ে মাদ্রাসার অফিস কক্ষ, পাশের অপর একটি কক্ষে ভাংচুর করেন। কেউ কেউ কক্ষের কিছু জিনিসপত্রও নিয়ে যায়। এছাড়া ওই শিক্ষকের স্ত্রী ও সন্তানকে একটি কক্ষে আটক রাখেন। পরে পুলিশ আটকদের হেফাজতে নেন।

সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোশাররফ হোসেন বলেন, বুধবার দিবাগত রাত ১২ টা ১০ মিনিটে ওই শিশুর দাদা বাদি হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ধর্ষণের মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় মাদ্রাসার মালিক ও তাঁর স্ত্রীকে আসামি করা হয়। মালিকের স্ত্রীকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ওই মামলার পর গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাতে মাদ্রাসার মালিকের ছেলে ধর্ষণ মামলার বাদিসহ ৬ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরো ১০-১৫ জনকে আসামি করে মাদ্রাসা ও বাসায় ভাংচুর, মারধর, লুটপাটের অভিযোগে মামলা দায়ের করেছেন।

  বিষয়:   মাদ্রাসা  আশুলিয়া  ভাংচুর 


সারাদেশ- এর আরোও খরব 
সম্পাদক ও প্রকাশক : শফিক রেহমান
অফিস:
যায়যায়দিন মিডিয়াপ্লেক্স
৪৪৬ ই+এফ+জি, লাভ রোড, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল, ঢাকা ১২০৮
ইমেইল : [email protected]
বিভাগীয় ফোন:
অনলাইন নিউজ- ০১৩৩৫১০৭৭০১, ০১৫৭২১৭৩৭৭৭
বিজ্ঞাপন বিভাগ- ০১৯১২২৯২৩১৩, ০১৭১১১৭৫৩৩১
সার্কুলেশন বিভাগ- ০১৭১২৩৮০৩২৫, ০১৮৩৪৮০০৮৭৭
© ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত