সিলেটের শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সে ১৮ দেশের মুদ্রা, নগদ প্রায় ৮৯ লাখ টাকা

যাযাদি অনলাইন

সারাদেশ

সিলেটের হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্স ও ডেগ থেকে ৮৮ লাখ ৬৫ হাজার ৮০৪ টাকা পাওয়া গেছে। এ ছাড়া পাওয়া

2026-10-24T21:05:45+06:00
2026-10-24T21:05:45+06:00
রোববার ● ২৫ অক্টোবর ২০২৬
৯ কার্তিক ১৪৩৩
শিরোনাম:
সারাদেশ
সিলেটের শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সে ১৮ দেশের মুদ্রা, নগদ প্রায় ৮৯ লাখ টাকা
যাযাদি অনলাইন
প্রকাশ: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:০৫ পিএম  
সংগৃহীত ছবি
সিলেটের হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্স ও ডেগ থেকে ৮৮ লাখ ৬৫ হাজার ৮০৪ টাকা পাওয়া গেছে। এ ছাড়া পাওয়া গেছে ১ ভরি সাড়ে ৮ আনা স্বর্ণ, ৩ ভরি ১৩ আনা রুপা এবং ১৮টি দেশের বৈদেশিক মুদ্রা। ৩৫ দিন পর শনিবার মাজারের তিনটি ডেগ ও পাঁচটি দানবাক্স খুলে দিনভর গণনা শেষে এসব অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী পাওয়া যায়।

শনিবার সন্ধ্যায় গণনার হিসাব ঘোষণা করেন সিলেটের জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন। এর আগে সকাল সাড়ে ৯টায় জেলা প্রশাসক, জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং মাজার ব্যবস্থাপনায় গঠিত কমিটির প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে প্রকাশ্যে অর্থ গণনা শুরু হয়। বর্তমান ব্যবস্থাপনায় এটি ছিল পঞ্চমবারের মতো প্রকাশ্যে দানবাক্স ও ডেগের অর্থ গণনা।

গণনায় পাওয়া বৈদেশিক মুদ্রার মধ্যে রয়েছে ১৪ ব্রিটিশ পাউন্ড, ৭ হাজার ৬৪৭ ভারতীয় রুপি, ২০ থাই বাত, ৯৩ সৌদি রিয়াল, ১১ মালয়েশীয় রিঙ্গিত, ২৯ মার্কিন ডলার, ১ হাজার ৩৫০ দশমিক ৫০ ওমানি বাইসা, ৬৫ সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিরহাম, ১৫ মালদ্বীপের রুপি, ১৭ কাতারি রিয়াল, ৭ ইউরো ৩৩ সেন্ট, ১০০ বাহরাইনি ফিলস, ১০ হংকং ডলার, ১ ব্রুনাই ডলার, ৫৫ নেপালি রুপি, ১০০ পাকিস্তানি রুপি, ৫০ রুশ রুবল এবং ৫০০ শ্রীলঙ্কান রুপি।

এদিন ৩৫ দিনের গরু ও ছাগলের হিসাবও উপস্থাপন করা হয়। হিসাব অনুযায়ী, সাতটি গরুর মধ্যে চারটি লঙ্গরখানায় শিরনি হিসেবে রান্না করা হয়েছে এবং তিনটি গরু খাদিমরা পেয়েছেন।

এ ছাড়া ৩১০টি ছাগলের মধ্যে ২৫টি জবাই করে বিতরণ করা হয়েছে। ২১০টি ছাগল লঙ্গরখানায় শিরনি হিসেবে রান্না করা হয়েছে, ২৭টি ব্যক্তিগত উদ্যোগে শিরনি করা হয়েছে এবং ৪৮টি ছাগল খাদিমরা পেয়েছেন।

শনিবার সকালে ডেগ খোলার সময় জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, দানবাক্স থেকে পাওয়া অর্থ আগের মতো ব্যাংক হিসাবে জমা রাখা হবে। ওই অর্থ থেকে বিদ্যুৎ বিলসহ বিভিন্ন ইউটিলিটি বিল পরিশোধ এবং আনসার সদস্যদের বেতন দেওয়া হবে।

মাজারের ব্যবস্থাপনার জন্য একজন ম্যানেজার, একজন হিসাবরক্ষক ও একজন কম্পিউটার অপারেটর নিয়োগ দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। নিয়োগপ্রক্রিয়া শেষ হতে আরও প্রায় এক মাস লাগতে পারে। কর্মী নিয়োগের পর প্রতিদিন দানের টাকা গণনা করা হবে। এর আগে বর্তমান ব্যবস্থাপনায় আরও একবার অর্থ গণনা হতে পারে বলে জানান জেলা প্রশাসক।

গত ২৩ সেপ্টেম্বর মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে গঠিত কমিটির সভায় দানের অর্থ ব্যবহারের নতুন নীতি নির্ধারণ করা হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দানবাক্সের অর্থের ৩৫ শতাংশ মাজারের উন্নয়নকাজে ব্যয় করা হবে। এ অর্থ সোনালী ব্যাংকের একটি হিসাবে জমা রাখা হবে। বাকি ৬৫ শতাংশ মাজারের দৈনন্দিন খরচ ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধে ব্যয় করা হবে বলে জানান জেলা প্রশাসক।

এর আগে আরও চার দফায় মাজারের দানবাক্স ও ডেগের অর্থ প্রকাশ্যে গণনা করা হয়। গত ২২ জুন প্রথম দফায় পাওয়া যায় ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা। পরে জেলা প্রশাসনের তহবিল থেকে ৫ লাখ টাকার চেক যুক্ত হলে মোট অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ২২ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা।

দ্বিতীয় দফায় ১১ জুলাই পাওয়া যায় ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা। এরপর ১৫ আগস্ট তৃতীয় দফার গণনায় পাওয়া যায় ৭০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭২ টাকা। ১৯ সেপ্টেম্বর চতুর্থ দফায় দানবাক্স ও ডেগ থেকে পাওয়া যায় ৮৮ লাখ ৯২ হাজার ৯৬৬ টাকা।

প্রতিবারই নগদ অর্থের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রা, স্বর্ণ ও রুপা পাওয়া গেছে।
সারাদেশ- এর আরোও খরব 
সম্পাদক ও প্রকাশক : শফিক রেহমান
অফিস:
যায়যায়দিন মিডিয়াপ্লেক্স
৪৪৬ ই+এফ+জি, লাভ রোড, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল, ঢাকা ১২০৮
ইমেইল : [email protected]
বিভাগীয় ফোন:
অনলাইন নিউজ- ০১৩৩৫১০৭৭০১, ০১৫৭২১৭৩৭৭৭
বিজ্ঞাপন বিভাগ- ০১৯১২২৯২৩১৩, ০১৭১১১৭৫৩৩১
সার্কুলেশন বিভাগ- ০১৭১২৩৮০৩২৫, ০১৮৩৪৮০০৮৭৭
© ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত