ছবি-যাযাদি কুমিল্লার দাউদকান্দিতে জমিজমা ও পারিবারিক বিরোধের জেরে একটি পরিবারের বাড়িতে দুই দফা হামলা ও একটি ঘরে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তিন নারী আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিচারের দাবিতে এলাকাবাসী মিছিল করেছেন। গণমাধ্যমকর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুনে পুড়ে যাওয়া ঘরটি দেখেছেন।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে প্রথম দফায় এবং একই রাতের পরবর্তী সময়ে দ্বিতীয় দফায় হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন পরিবারের সদস্যরা। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের বালুচর গ্রামের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে।
ঘটনার পরদিন সরেজমিনে দেখা যায়, আগুনে ঘরটির পুড়ে যাওয়ার পরের দৃশ্য । পরিবারের সদস্যরা জানান, ওই ঘরে হাজেরা বেগম বসবাস করতেন।
প্রথমে গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে মৌখিকভাবে ঘটনার বিবরণ তুলে ধরেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য সুমি (২৬), এবং দৌলতপুর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম বেপারী। তাঁদের অভিযোগ, জমিজমা ও পারিবারিক বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের লোকজন প্রথমে রাত ১১টার দিকে তাঁদের বাড়িতে হামলা চালান। পরে রাত তিনটার দিকে আবারও হামলা চালিয়ে একটি ঘরে আগুন দেওয়া হয়। এ সময় তিন নারী আহত হন বলে তাঁরা দাবি করেন।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গেও কথা বলেন গণমাধ্যমকর্মীরা। তাঁদের কাছ থেকেও দুই দফা হামলার তথ্য পাওয়া গেছে। ঘটনার প্রতিবাদে এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিচারের দাবিতে এলাকাবাসীর মিছিলও সরেজমিনে দেখেন গণমাধ্যমকর্মীরা।
এ ঘটনায় পরে সুমি (২৬) দাউদকান্দি মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, প্রতিপক্ষের সঙ্গে তাঁদের জমিজমা ও পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ চলছিল। এর জেরে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা তাঁদের বাড়িতে প্রবেশ করে মারধর করেন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। এ ছাড়া স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়া ও কয়েকজনের শ্লীলতাহানির অভিযোগও করেছেন তিনি।
লিখিত অভিযোগে মো. মিজান তালুকদার, মো. রাসেল তালুকদার, মো. সিহাব তালুকদার, কানন তালুকদার, রাজ্জব তালুকদার, রবিউল তালুকদার, মো. রনি মিয়া, তাহেরা আক্তার, লিজা আক্তার, হামিদা, ফাতেমা বেগম, শিউলী আক্তার ও মো. সবুজ তালুকদারের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও চার-পাঁচজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
অভিযোগকারী জানান, হামলায় আহত ব্যক্তিদের দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
দাউদকান্দি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম যায়যায়দিনকে বলেন, এ ব্যাপারে অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।