সরাইল থানায় ওসির সাথে ব্যারিষ্টার রুমিন ফারহানা এমপির বাদানুবাদের ঘটনায় পুলিশের জিডি

স্টাফ রিপোর্টার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া

সারাদেশ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল থানার ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়ার সাথে থানা ভবনে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার বাদানুবাদে জড়ানোর ঘটনায় পুলিশের

2026-10-24T16:57:41+06:00
2026-10-24T16:57:41+06:00
শনিবার ● ২৪ অক্টোবর ২০২৬
৮ কার্তিক ১৪৩৩
শিরোনাম:
সারাদেশ
সরাইল থানায় ওসির সাথে ব্যারিষ্টার রুমিন ফারহানা এমপির বাদানুবাদের ঘটনায় পুলিশের জিডি
স্টাফ রিপোর্টার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
প্রকাশ: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৫৭ পিএম  
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল থানার ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়ার সাথে থানা ভবনে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার বাদানুবাদে জড়ানোর ঘটনায় পুলিশের  পক্ষ থেকে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।

গত শুক্রবার রাতে জিডির বিষয়টি জানাজানি হয়। তবে জিডির বিষয়ে কোনো তথ্য দিতে রাজি হননি ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়া। তবে ঘটনার সময় রুমিন ফারহানার সাথে থানায় কারা কারা এসেছিলেন- পুলিশ তাদের তথ্য সংগ্রহ করছে বলে সূত্রে জানা গেছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মোহাম্মদ আরাফাতুল ইসলাম বলেন, ওইদিনের ঘটনাটা উল্লেখ করে একটি জিডি করা হয়েছে। এটি কোনো অভিযোগ না। আমরা যে কোনো উল্লেখযোগ্য ঘটনা হলেই আমরা জিডি করে রাখি।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাতে সরাইল থানা ভবনে ওসির সাথে তার অনিয়ম-দুর্নীতি ও দুর্গাপূজায় মন্ডপ পরিদর্শনের সময় পুলিশি নিরাপত্তা না দেয়ার কারণে বাদানুবাদে জড়ান  ব্যারিষ্টার রুমিন ফারহানা এমপি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দুর্গাপূজা চলাকালে পূজামন্ডপ পরিদর্শনকালে সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানাকে নিরাপত্তা প্রদানের জন্য বলা হলেও ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়া নিরাপত্তা প্রদানের ব্যবস্থা করেননি। নিরাপত্তা না দেয়ার কারণ এবং ওসির বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে জানতে বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে থানায় যান রুমিন ফারহানা। রাত ৯টা পর্যন্ত তিনি থানায় ওসির কক্ষে অবস্থান করেন।

এ সময় রুমিন ফারহানার সাথে আসা এক ব্যক্তি অভিযোগ করেন ওসি তার কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা ঘুষ নিয়েছেন। ওসি ঘুষ নেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং ওই ব্যক্তিকে রুমিন ফারহানা শিখিয়ে থানায় এনেছেন বলে উল্লেখ করেন। এ নিয়ে বাদানুবাদের এক পর্যায়ে রুমিন ফারহানা ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়াকে বলেন, “আপনি তো বিরাট আওয়ামী লীগ ছিলেন। আপনার হিস্ট্রি তো আমি জানি স্যার। যাই হোক সেটা নিয়ে আমার কোনো মাথাব্যথা নেই”।

তবে রুমির ফারহানার অভিযোগ অস্বীকার করে ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়া ওইদিন সাংবাদিকদের বলেন, সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা শত শত লোক নিয়ে থানায় এসে অস্থিরতা তৈরি করেন। কিছু লোককে শিখিয়ে নিয়ে আসেন আজেবাজে কথা বলার জন্য। ওনি বলেছেন আমি ইটভাটা থেকে টাকা নেই। হাওরে সব ইটভাটা পানির নিচে। আর আমরা পূজায় পুরো থানা এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছিলাম। কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে ওনার সাথে পুলিশের একটি টিম রাখা ওই সময় কঠিন ছিল।

এ ব্যাপারে রুমিন ফারহানা এমপি ওইদিন সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ওনি (ওসি) বলেন যে ওনি নির্বাচিত এমপি, ওনার নিরাপত্তা মানুষ দেবে। এজন্যই মানুষ যা দেখছেন, ওরা আমার নিরাপত্তা দিচ্ছে। আমার তো নিরাপত্তা লাগবে। আর ওনার (ওসি) বিরুদ্ধে দুর্নীতি, মাটি কাটার থেকে পয়সা নেয়া, ইটের ভাটার পয়সা নেয়াসহ বিস্তর অভিযোগ। তিনি আরও বলেন অন্তর্র্বতীকালীন সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর তার ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট দুর্নীতির অভিযোগ এনে তাকে সরানোর জন্য মিডিয়ার সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলেছে তিনি সেই ওসি। 

তিনি বলেন, এলাকাটা দাঙ্গাপ্রবণ। দাঙ্গা হওয়ার পরে যখন সব শান্ত হয়, তখন ওনারা যান। এ বিষয়গুলোই আমি আজকে জানতে এসেছিলাম। ওনি যেই ব্যবহার আমার সাথে করেছেন, সেটা একজন নির্বাচিত এমপির সাথে করা যায় না।
  বিষয়:   সরাইল  ব্যরিস্টার  রুমিন ফারহানা 


সারাদেশ- এর আরোও খরব 
সম্পাদক ও প্রকাশক : শফিক রেহমান
অফিস:
যায়যায়দিন মিডিয়াপ্লেক্স
৪৪৬ ই+এফ+জি, লাভ রোড, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল, ঢাকা ১২০৮
ইমেইল : [email protected]
বিভাগীয় ফোন:
অনলাইন নিউজ- ০১৩৩৫১০৭৭০১, ০১৫৭২১৭৩৭৭৭
বিজ্ঞাপন বিভাগ- ০১৯১২২৯২৩১৩, ০১৭১১১৭৫৩৩১
সার্কুলেশন বিভাগ- ০১৭১২৩৮০৩২৫, ০১৮৩৪৮০০৮৭৭
© ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত