ফ্রান্সে বিক্ষোভ ঠেকাতে ৭০ হাজার পুলিশ মোতায়েন

যাযাদি অনলাইন

আন্তর্জাতিক

ফ্রান্সে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ও সহিংসতা মোকাবিলায় দেশজুড়ে ৭০ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করেছে সরকার। শনিবার (২৪ অক্টোবর) বিক্ষোভ কর্মসূচিকে

2026-10-24T15:39:39+06:00
2026-10-24T15:39:39+06:00
শনিবার ● ২৪ অক্টোবর ২০২৬
৮ কার্তিক ১৪৩৩
শিরোনাম:
আন্তর্জাতিক
ফ্রান্সে বিক্ষোভ ঠেকাতে ৭০ হাজার পুলিশ মোতায়েন
যাযাদি অনলাইন
প্রকাশ: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৩৯ পিএম  
ছবি: সংগৃহীত
ফ্রান্সে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ও সহিংসতা মোকাবিলায় দেশজুড়ে ৭০ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করেছে সরকার। শনিবার (২৪ অক্টোবর) বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। গত সপ্তাহের তুলনায় এবার প্রায় ১০ হাজার বেশি পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানিয়েছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেজ।

আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিক্ষোভের প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে শুক্রবার প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর শীর্ষ মন্ত্রী ও কর্মকর্তাদের নিয়ে গঠিত প্রতিরক্ষা পরিষদের বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গেও তাঁর আলোচনার পরিকল্পনা ছিল। প্রেসিডেন্টের দপ্তর জানিয়েছে, বৈঠকের পর পরিস্থিতি মোকাবিলায় আরও কিছু সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হতে পারে।

ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে জনসমাগম ও গণপরিবহনের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ সাম্প্রতিক অস্থিরতার জন্য উগ্র বামপন্থী গোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করেছেন। তবে এসব গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে সরকারি ভবন লক্ষ্যবস্তু করার আহ্বানসংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে বিস্তারিত যাচাইয়ের তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেজ জানিয়েছেন, শনিবার দেশজুড়ে প্রায় ৭০ হাজার পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। নিরাপত্তা ব্যবস্থায় পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট, অশ্বারোহী পুলিশ, হেলিকপ্টার, ড্রোন, সাঁজোয়া যান ও জলকামান রাখা হয়েছে।

নুনেজ বলেন, সহিংসতা, লুটপাট ও দাঙ্গায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গত সপ্তাহে সংবেদনশীল কয়েকটি এলাকায় যে কারফিউ জারি করা হয়েছিল, তা বহাল রাখার কথাও জানান তিনি।

গত শনিবার ফ্রান্সজুড়ে পাচ লাখের বেশি মানুষ বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই কর্মসূচির একপর্যায়ে বিভিন্ন স্থানে সহিংসতা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এর পরিপ্রেক্ষিতে এবার নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ জানান, শনিবার শুধু শ্রমিক ইউনিয়নগুলোর বিক্ষোভ কর্মসূচিকে অনুমতি দেওয়া হবে। এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে স্কুলের পরিস্থিতি, জীবনযাত্রার উচ্চ ব্যয় ও অন্যান্য দাবিতে শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন গোষ্ঠী বিক্ষোভ করে আসছে।

শুক্রবার ম্যাক্রোঁ হাইস্কুল শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈঠক করেন। ‘হাইস্কুল রিনিউয়াল’ নামের শিক্ষার্থী সংগঠনের সভাপতি নাথানায়েল কম্বারি জানান, প্রেসিডেন্ট তাঁদের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন। তবে সোমবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন তারা।

কম্বারি বলেন, প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকে তারা সন্তুষ্ট নন। শিক্ষার্থীদের সংগঠিত হওয়ার কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বানও জানান তিনি। রাজধানী প্যারিসে রাতের কারফিউ সোমবার পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। দেশটির তৃতীয় বৃহত্তম শহর লিওঁর কেন্দ্রীয় এলাকায় জনসমাগম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। শনিবারের জন্য সেখানে কারফিউ ও গণপরিবহনে বিধিনিষেধও আরোপ করা হয়েছে।

উপকূলীয় শহর মার্সেইতে বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করা হলেও শুক্রবার কর্তৃপক্ষ বিশেষ বিবেচনায় শ্রমিক ইউনিয়নের একটি মিছিলের অনুমতি দেওয়ার কথা জানায়।

এদিকে, ফ্রান্সের জাতীয় ছাত্র ইউনিয়ন ইউএনইএফ শনিবার সমাবেশের ডাক দিয়েছে। ২০১৮ সালে আত্মপ্রকাশ করা সরকারবিরোধী ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলনও প্যারিসের কেন্দ্রস্থলে পদযাত্রার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুলিশ প্যারিসে শ্রমিক ইউনিয়নকে নির্ধারিত সীমিত পথে বিক্ষোভের অনুমতি দিয়েছে। অন্যদিকে, ইউএনইএফ ও ইয়েলো ভেস্ট আন্দোলনের সমাবেশের আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। তবে ইউএনইএফ জানিয়েছে, তারা কর্মসূচি চালিয়ে যাবে।

রাজধানীর দক্ষিণে অরলিয়ঁ শহরে বিরোধীদলীয় নেত্রী মেরিন ল্য পেনের কট্টর ডানপন্থী দল ন্যাশনাল র‍্যালির দলীয় কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর প্রতিবাদে সেখানে ২০ হাজার থেকে ৩০ হাজার মানুষ বিক্ষোভ করতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, শহরের কেন্দ্রস্থলে এ জমায়েত হতে দেওয়া হবে না।

ফরাসি সরকারের আরোপিত বিধিনিষেধের সমালোচনা করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সংস্থাটি এসব পদক্ষেপকে কর্তৃত্ববাদী আচরণের দিকে ঝুকে পড়ার লক্ষণ হিসেবে বর্ণনা করেছে এবং শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের অধিকার নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে।

এ ছাড়া, ভিড় নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত অস্ত্রের আঘাতে শিক্ষার্থী ও অপ্রাপ্তবয়স্কদের গুরুতর আহত হওয়ার খবর নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ।

ফরাসি শ্রমিক সংগঠন ডেমোক্রেটিক কনফেডারেশন অব লেবার ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মারিলিস লিওঁর মতে, জনগণের মধ্যে থাকা তীব্র ক্ষোভ বিবেচনায় না নিয়ে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে তা উল্টো ফল বয়ে আনতে পারে।

ইউএনইএফের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, ম্যাক্রোঁ সরকার বিক্ষোভের স্বাধীনতা খর্ব করছে। সংগঠনটির মতে, এ ধরনের বিধিনিষেধ ফরাসি প্রজাতন্ত্রের ঘোষিত মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে প্রধান শহরগুলোতে দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। শনিবার প্যারিসের ল্যুভর জাদুঘর ও লুই ভুইতোঁ ফাউন্ডেশন বন্ধ থাকার কথা রয়েছে। এ ছাড়া, প্যারিসে আয়োজিত আর্ট বাসেল মেলা নির্ধারিত সময়ের দুই দিন আগে শুক্রবার শেষ হওয়ার কথা জানানো হয়েছে।

ফ্রান্সের বিচার মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত শনিবারের সহিংসতার পর থেকে এ পর্যন্ত ২ হাজার ৭০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
  বিষয়:   ফ্রান্স  ফ্রান্সের বিক্ষোভ  ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ  পুলিশ 


আন্তর্জাতিক- এর আরোও খরব 
সম্পাদক ও প্রকাশক : শফিক রেহমান
অফিস:
যায়যায়দিন মিডিয়াপ্লেক্স
৪৪৬ ই+এফ+জি, লাভ রোড, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল, ঢাকা ১২০৮
ইমেইল : [email protected]
বিভাগীয় ফোন:
অনলাইন নিউজ- ০১৩৩৫১০৭৭০১, ০১৫৭২১৭৩৭৭৭
বিজ্ঞাপন বিভাগ- ০১৯১২২৯২৩১৩, ০১৭১১১৭৫৩৩১
সার্কুলেশন বিভাগ- ০১৭১২৩৮০৩২৫, ০১৮৩৪৮০০৮৭৭
© ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত