প্রকাশ: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৪১ এএম আপডেট: ২৪.১০.২০২৬ ১:৩০ পিএম
দ্য সি প্রিন্সেস উখিয়ার ইনানীতে টুপটুপ রিসোর্টের মর্মান্তিক অগ্নি দুর্ঘটনায় ১০ পর্যটকের অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যুর রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও কক্সবাজারে অগ্নিকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি ঘটেছে।
এবার সুগন্ধা পয়েন্টের দ্য সি প্রিন্সেস নামে আবাসিক হোটেলে জেনারেটরের শর্ট সার্কিট থেকে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। ঘটনার সময় ভবনটিতে অবস্থানরত তিন শতাধিক পর্যটকের প্রাণনাশের আশঙ্কা তৈরি হলেও সৌভাগ্যবশত কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের দ্রুত পদক্ষেপে পার্কিং এলাকার জেনারেটরসহ বিপুল ক্ষয়ক্ষতি সত্ত্বেও আগুন দ্রুত নির্বাপণ করা সম্ভব হয়।
হোটেল কর্তৃপক্ষের দাবি, তাদের আধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা ও কর্মীদের তাৎক্ষণিক বুদ্ধিমত্তাই এই মহাবিপর্যয় থেকে পর্যটকদের রক্ষা করেছে। তবে পরপর দুটি আবাসন প্রতিষ্ঠানে এই ধরনের অগ্নিকাণ্ড কক্সবাজারের পর্যটন শিল্পের সার্বিক সুরক্ষাকে গভীর প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।
হোটেল কর্তৃপক্ষ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, জেনারেটরের শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লাগার পর মুহূর্তের মধ্যে তা পার্কিং এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে এসময় তীব্র ধোঁয়ার সৃষ্টি হয় এবং ভবনে অবস্থানরত পর্যটকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও হুড়োহুড়ি তৈরি হয়। তবে সময়োচিত সতর্কতার কারণে আবাসিক অতিথিরা অতি দ্রুত ও নিরাপদে ভবন ত্যাগ করতে সক্ষম হন। খবর পেয়ে কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের তৎপরতা এবং হোটেল কর্তৃপক্ষের যৌথ প্রচেষ্টায় প্রায় আধা ঘণ্টার নিরলস পরিশ্রমে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসে। এই অগ্নিকাণ্ডে হোটেলের পার্কিং এলাকায় থাকা বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী জেনারেটরসহ অভ্যন্তরীণ কিছু অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
হোটেলটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল কাদের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আমাদের বহুতল ভবনে পর্যাপ্ত ও আধুনিক অগ্নিনির্বাপক মহড়া ও সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা মজুত ছিল। অগ্নিকাণ্ডের সূচনালগ্নেই আমাদের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের তাৎক্ষণিক দক্ষতা, বুদ্ধিমত্তা ও সাহসিকতার কারণে একটি প্রলয়ংকরী বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে। কোনো প্রকার হতাহতের ঘটনা ঘটেনি এবং আমাদের সকল পর্যটক সম্পূর্ণ নিরাপদ ও অক্ষত আছেন।
এদিকে দুর্ঘটনার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ দিয়ে কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন জানান, আমরা অগ্নিকাণ্ডের বার্তা পাওয়ামাত্রই নিকটবর্তী স্টেশন থেকে একটি ক্ষিপ্র ও কার্যকরী ইউনিট ঘটনাস্থলে প্রেরণ করি এবং আগুন সফলভাবে নির্বাপণ করতে সক্ষম হই। প্রাথমিক অনুসন্ধানে ধারণা করা হচ্ছে, পার্কিং এলাকায় স্থাপিত জেনারেটরের শর্ট সার্কিট থেকেই এই বৈদ্যুতিক অগ্নিকাণ্ডের উৎপত্তি ঘটেছে। সৌভাগ্যবশত, কোনো প্রাণহানি বা শারীরিক জখমের ঘটনা ঘটেনি।
উল্লেখ্য, মাত্র এক সপ্তাহ আগে গত ১৭ অক্টোবর (শনিবার) কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার ইনানী সমুদ্রসৈকত সংলগ্ন ‘টুপটুপ রিসোর্ট’ নামের একটি আবাসিক প্রতিষ্ঠানে মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডে ১০ জন পর্যটকের করুণ মৃত্যু হয়। সেই শোকাবহ ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই সুগন্ধা পয়েন্টের এই তারকা মানের হোটেলে পুনরায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা পর্যটন নগরীর আবাসন খাতের সার্বিক অগ্নিনিরাপত্তা ও কাঠামোগত সুরক্ষার বিষয়টিকে আবারও বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।