প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:০৫ পিএম
ছবি: যাযাদিইবাদতের প্রকৃত মূল্য ও কবুলিয়ত নিয়তের বিশুদ্ধতার ওপর নির্ভর করে বলে মন্তব্য করেছেন আমীরে হিযবুল্লাহ আলহাজ হযরত মাওলানা মুফতি শাহ আবু নছর নেছারুদ্দীন আহমদ হুসাইন (মা.জি.আ.)। তিনি বলেছেন, নিয়ত যদি একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে না হয়, তবে ইবাদত থেকে প্রকৃত শিক্ষা ও আত্মিক উপকারিতা অর্জন ব্যাহত হয়।
বুধবার (২১ অক্টোবর) নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানার মিরকুন্ডী দারুসসুন্নাত ছালেহীয়া দীনিয়া কমপ্লেক্স ও ডা. ইয়াসির হাসান শেখ হাফিজিয়া মাদ্রাসায় তাঁর শুভাগমন উপলক্ষে আয়োজিত ইছালে ছওয়াব ও দোয়ার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মিরকুন্ডী কবরস্থানসংলগ্ন ঈদগাহ মাঠে গ্রামের সর্বস্তরের মানুষের উদ্যোগে এ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
ছারছীনা দরবার শরীফের পীর সাহেব বলেন, যেকোনো নেক আমলের প্রথম ও প্রধান শর্ত হলো ইখলাস বা নিয়তের বিশুদ্ধতা। রাসুলুল্লাহ (সা.) ঘোষণা করেছেন, আমলের প্রতিদান নিয়তের ওপর নির্ভরশীল। ইবাদতে লোকদেখানো মনোভাব, দুনিয়াবি নাম-যশের আকাঙ্ক্ষা কিংবা অহংকার প্রবেশ করলে বাহ্যিকভাবে কষ্ট স্বীকার করেও ইবাদতের প্রকৃত উদ্দেশ্য অর্জন করা সম্ভব হয় না।
তিনি বলেন, ইবাদতের মূল শিক্ষা হলো তাকওয়া, আত্মশুদ্ধি ও চরিত্রগঠন। নিয়তের বিশুদ্ধতা না থাকলে মানুষ এসব শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হতে পারে।
বর্তমান সময়ে মানুষ আমলের বাহ্যিক রূপের প্রতি যতটা মনোযোগী, অন্তরের বিশুদ্ধতার প্রতি ততটা যত্নবান নয় বলে মন্তব্য করেন ছারছীনা পীর। তিনি বলেন, হাসাদ বা হিংসা, কিবর বা অহংকার এবং রিয়া বা লোকদেখানো মনোভাব থেকে অন্তরকে মুক্ত রাখতে না পারলে ইবাদত কেবল প্রথাগত অনুশীলনে পরিণত হয়। এতে ব্যক্তি ও সমাজজীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই যেকোনো ভালো কাজ শুরু করার আগে নিয়ত বিশুদ্ধ করার আহ্বান জানান তিনি।
বাদ আসর থেকে শুরু হয়ে গভীর রাত পর্যন্ত চলা এ মাহফিলে আরও আলোচনা করেন বাংলাদেশ জমইয়াতে হিযবুল্লাহর সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মো. হেমায়েত বিন তৈয়্যেব, ছারছীনা দারুচ্চুন্নাত জামেয়ায়ে নেছারীয়া দীনিয়ার নায়েবে মুদীর মাওলানা মো. মামুনুল হক এবং পীর সাহেবের সফরসঙ্গী মাওলানা মো. মোহেব্বুল্লাহ আল মাহমুদসহ অন্যরা।
মাহফিল শেষে সমগ্র মুসলিম উম্মাহর হেদায়েত ও ঐক্য এবং দেশ ও জাতির সার্বিক শান্তি ও কল্যাণ কামনা করে আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করেন ছারছীনা পীর সাহেব।