চার স্ত্রী, ৫৮ সন্তান, সবার নাম মনে রাখতে পারেন না আফগানিস্তানের সাদিক

যাযাদি অনলাইন

আন্তর্জাতিক

আফগানিস্তানের উরুজগান প্রদেশের বাসিন্দা মোহাম্মদ সাদিক। চার স্ত্রীর ঘরে তার ৫৮ সন্তান। কয়েক সপ্তাহ আগে জন্ম নিয়েছে তার সর্বকনিষ্ঠ সন্তান।

2026-10-22T17:59:11+06:00
2026-10-22T17:59:11+06:00
বৃহস্পতিবার ● ২২ অক্টোবর ২০২৬
৬ কার্তিক ১৪৩৩
শিরোনাম:
আন্তর্জাতিক
চার স্ত্রী, ৫৮ সন্তান, সবার নাম মনে রাখতে পারেন না আফগানিস্তানের সাদিক
যাযাদি অনলাইন
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৫৯ পিএম  
প্রতি রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে সন্তানদের গুনে দেখেন মোহাম্মদ সাদিক । ছবি: বিবিসি
আফগানিস্তানের উরুজগান প্রদেশের বাসিন্দা মোহাম্মদ সাদিক। চার স্ত্রীর ঘরে তার ৫৮ সন্তান। কয়েক সপ্তাহ আগে জন্ম নিয়েছে তার সর্বকনিষ্ঠ সন্তান। বিশাল এই পরিবারের খাবার, পোশাক, শিক্ষা ও বাসস্থানের ব্যবস্থা করতে প্রতিদিনই কঠিন সংগ্রাম করতে হয় তাকে। কখনো কখনো এত সন্তানের নামও মনে রাখতে পারেন না তিনি। তবু তার স্বপ্ন, সন্তানরা লেখাপড়া শিখবে এবং কাউকে ক্ষুধার্ত অবস্থায় ঘুমাতে হবে না।

মোহাম্মদ সাদিকের পারিবারিক জীবনের গল্পে একদিকে যেমন রয়েছে অসংখ্য সন্তানকে ঘিরে ব্যস্ততা, অন্যদিকে রয়েছে দারিদ্র্য, সীমিত সুযোগ-সুবিধা ও সন্তান হারানোর বেদনা। বছরের পর বছর ধরে তিনি ও তার স্ত্রীরা ১৪ সন্তানকে হারিয়েছেন।

এত বড় পরিবারের সদস্যদের দেখভাল করা যে কতটা কঠিন, তা বোঝাতে গিয়ে মোহাম্মদ সাদিক জানান, কখনো কখনো সব সন্তানের নাম মনে রাখতে পারেন না তিনি। তাই অনেককে ‘বাবা’ কিংবা ‘আমার সন্তান’ বলে ডাকেন।

প্রতি রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে সন্তানদের গুনে দেখেন, সবাই বাড়িতে আছে কি না। এক রাতে খাবার টেবিলে বসে সন্তানদের গুনতে গিয়ে একজনকে কম পান তিনি। কিন্তু অনুপস্থিত সন্তানটি ছেলে, নাকি মেয়ে, তা-ও মনে করতে পারেননি। পরে সন্তানদের মায়েদের কাছে জানতে পারেন, একজন সন্তানকে তার নানির বাড়িতে পাঠানো হয়েছে। সে রাতে সেখানেই থাকবে।

সাদিকের ভাষ্য অনুযায়ী, ছোট সন্তানরা যখন তাকে ঘিরে জড়ো হয়, তখন বাড়িটি কোলাহল, হাসি আর ব্যস্ততায় ভরে ওঠে। তার কাছে সেই দৃশ্য যেন কোনো বিয়ের অনুষ্ঠানের মতো।

মোহাম্মদ সাদিকের প্রথম বিয়ে হয় তার ২০ বছর বয়সে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, চার স্ত্রীর প্রত্যেকের বিয়ের সময় বয়স ছিল ১৩ থেকে ১৬ বছরের মধ্যে। বিয়ের জন্য কনের পরিবারকে দেওয়ার অর্থ জোগাড় করতে তাকে প্রতিবার কয়েক বছর ধরে সঞ্চয় করতে হয়েছে।

অল্প বয়সে বিয়ে হওয়ায় তার স্ত্রীরা শৈশব ও কৈশোরেই সংসার, গর্ভধারণ, সন্তান জন্মদান এবং সন্তান লালন-পালনের দায়িত্ব নেন। বছরের পর বছর ধরে এসব দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তাদের জীবনও নানা চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে গেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অল্প বয়সে বিয়ে ও গর্ভধারণ মা এবং শিশুর স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি বাড়াতে পারে। বারবার গর্ভধারণের ফলে নারীদের বিভিন্ন স্বাস্থ্যগত জটিলতার আশঙ্কাও থাকে।

আফগানিস্তানের গ্রামীণ ও দুর্গম এলাকায় মানসম্মত চিকিৎসাসেবার সীমিত সুযোগ মাতৃস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে বাড়তি উদ্বেগ তৈরি করে।

বিশাল পরিবারের ব্যয় মেটাতে মোহাম্মদ সাদিক একটি গাড়ির শোরুমে কাজ করেন। তিনি জানান, প্রতিটি গাড়ি বিক্রির জন্য মাত্র এক হাজার আফগানি কমিশন পান। এই আয় দিয়ে পরিবারের সবার খাবার, পোশাক ও অন্যান্য প্রয়োজন মেটানো কঠিন হয়ে পড়ে।

পরিবারের ব্যয় সামলাতে তার অনেক সন্তানও কাজ করে। কেউ কেউ কাগজ, প্লাস্টিক ও পুনর্ব্যবহারযোগ্য বিভিন্ন উপকরণ সংগ্রহ করে। এসব উপকরণ জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হয়, অথবা বিক্রি করে সংসারের খরচে অবদান রাখা হয়।

পরিবারটির বাসস্থানেও মৌলিক সুযোগ-সুবিধার অভাব রয়েছে। গোসলের জায়গাটিই কাপড় ও বাসন ধোয়ার কাজে ব্যবহৃত হয়, একই স্থান শৌচাগার হিসেবেও কাজে লাগে। ঘরগুলোতে জানালা নেই, মজবুত দরজাও নেই। প্রবেশপথে ঝোলানো রয়েছে পাতলা পর্দা।

শীতের রাতে কখনো ছয়-সাতজনকে একটি পাতলা কম্বলের নিচে ঘুমাতে হয়। সাধারণ গদি ছাড়া আর কোনো বিশেষ শোয়ার ব্যবস্থা নেই। শীত মোকাবিলায় পরিবারটি কাগজ ও সহজলভ্য অন্যান্য উপকরণ পুড়িয়ে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করে।

নিজে পড়াশোনার সুযোগ না পেলেও সন্তানদের শিক্ষিত করতে চান মোহাম্মদ সাদিক। তিনি জানান, সন্তানদের স্কুলে পাঠানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন। কিন্তু সীমিত আয়ের কারণে তাদের শিক্ষার ব্যয় বহন করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

পরিবারের প্রয়োজনীয় ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাওয়া সাদিক সরকার, সহায়তা সংস্থা ও আর্থিকভাবে সচ্ছল ব্যক্তিদের কাছে সাহায্য চেয়েছেন। তার লক্ষ্য, সন্তানদের মৌলিক চাহিদা পূরণ করা এবং তাদের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করা।

নিজের জীবনের সবচেয়ে বড় দুটি ইচ্ছার কথা বলতে গিয়ে মোহাম্মদ সাদিক বলেন, আমার প্রথম ইচ্ছা, আমার সন্তানরা শিক্ষা লাভ করুক, ধর্ম এবং পৃথিবী সম্পর্কে জানুক। দ্বিতীয়ত, তাদের যেন কখনো ক্ষুধার্ত অবস্থায় ঘুমাতে না হয় এবং তাদের পেট যেন ভরা থাকে।

৫৮ সন্তানের এই বাবার কাছে তাই সবচেয়ে বড় স্বপ্ন শুধু বিশাল পরিবারকে একসঙ্গে রাখা নয়, বরং সন্তানদের জন্য শিক্ষা, খাবার ও একটু ভালো জীবন নিশ্চিত করা।
  বিষয়:   আফগানিস্তান  বাবা  মোহাম্মদ সাদিক  দারিদ্র্য 


আন্তর্জাতিক- এর আরোও খরব 
সম্পাদক ও প্রকাশক : শফিক রেহমান
অফিস:
যায়যায়দিন মিডিয়াপ্লেক্স
৪৪৬ ই+এফ+জি, লাভ রোড, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল, ঢাকা ১২০৮
ইমেইল : [email protected]
বিভাগীয় ফোন:
অনলাইন নিউজ- ০১৩৩৫১০৭৭০১, ০১৫৭২১৭৩৭৭৭
বিজ্ঞাপন বিভাগ- ০১৯১২২৯২৩১৩, ০১৭১১১৭৫৩৩১
সার্কুলেশন বিভাগ- ০১৭১২৩৮০৩২৫, ০১৮৩৪৮০০৮৭৭
© ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত