প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৪৩ পিএম
ছবি: যাযাদিখুলনার কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে চিকিৎসক না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকালে দেড় মাস বয়সী শিশু মুয়াজ আব্দুল্লাহকে হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়। পরিবারের অভিযোগ, সকাল সাড়ে সাতটা থেকে প্রায় নয়টা পর্যন্ত অপেক্ষা করেও চিকিৎসকের দেখা পাননি তারা। এ ঘটনায় হাসপাতালের জরুরি চিকিৎসাসেবা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্বজনেরা।
শিশুটির মামা রাকিব হাসান জানান, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে মুয়াজ কান্নাকাটি করছিল। অবস্থার অবনতি হলে সকাল সাড়ে সাতটার দিকে তাকে কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে সেখানে জরুরি বিভাগে কোনো চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন না বলে অভিযোগ করেন তিনি।
রাকিব হাসানের ভাষ্য, জরুরি বিভাগে দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা বাইরের ওষুধের দোকান থেকে দুটি ওষুধ আনতে বলেন। ওষুধ এনে দেওয়ার পর শিশুটিকে নেবুলাইজার দেওয়া হয়। এরপর চিকিৎসক এসে শিশুটিকে দেখবেন বলে জানানো হয়। কিন্তু সকাল নয়টা পর্যন্ত অপেক্ষা করেও কোনো চিকিৎসক শিশুটিকে দেখতে আসেননি বলে দাবি করেন তিনি।
পরিবারের অভিযোগ, সময়মতো চিকিৎসক পেলে শিশুটির চিকিৎসা নিশ্চিত করা যেত কি না, সেই প্রশ্নের উত্তর এখনো অজানা। তবে চিকিৎসক না পাওয়ার অভিযোগের সঙ্গে শিশুটির মৃত্যুর সরাসরি সম্পর্ক ছিল কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার মতো তথ্য পাওয়া যায়নি।
শিশুটির মৃত্যুর পর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসকের উপস্থিতি, দায়িত্ব পালনের সময়সূচি এবং জরুরি রোগীদের দ্রুত চিকিৎসা দেওয়ার ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে শিশুদের সংকটাপন্ন অবস্থায় দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হাসপাতালের প্রস্তুতি ও দায়িত্বশীলদের ভূমিকা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন স্বজনেরা।
এ বিষয়ে জানতে কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিমের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
শিশুটির মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণও জানা যায়নি। চিকিৎসকের অনুপস্থিতির অভিযোগ এবং জরুরি বিভাগে সেদিন দায়িত্ব পালনের বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র স্পষ্ট হবে।