সৌদি আরবে ছয় মাসে ১০৮ জনের মৃত্যুদণ্ড, তালিকায় বাংলাদেশিরাও

যাযাদি অনলাইন

আন্তর্জাতিক

চলতি ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে সৌদি আরবে অন্তত ১০৮ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইউরোপীয় সৌদি অর্গানাইজেশন

2026-10-22T16:08:09+06:00
2026-10-22T16:08:09+06:00
বৃহস্পতিবার ● ২২ অক্টোবর ২০২৬
৬ কার্তিক ১৪৩৩
শিরোনাম:
আন্তর্জাতিক
সৌদি আরবে ছয় মাসে ১০৮ জনের মৃত্যুদণ্ড, তালিকায় বাংলাদেশিরাও
যাযাদি অনলাইন
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:০৮ পিএম  
ছবি: সংগৃহীত
চলতি ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে সৌদি আরবে অন্তত ১০৮ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইউরোপীয় সৌদি অর্গানাইজেশন ফর হিউম্যান রাইটস (ইএসওএইচআর)। দণ্ড কার্যকর হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ১৭টি দেশের নাগরিক রয়েছেন, যাদের মধ্যে বাংলাদেশিরাও আছেন। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, এ সময়ে কার্যকর হওয়া মৃত্যুদণ্ডের প্রায় ৬৬ শতাংশই ছিল মাদক-সংশ্লিষ্ট অপরাধে।

মানবাধিকার সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের উচ্চ হার অব্যাহত রয়েছে। বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ ও যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের শাসনামলে ২০২৬ সালের প্রথমার্ধ পর্যন্ত মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের মোট সংখ্যা দুই হাজারে পৌছেছে বলে দাবি করেছে সংস্থাটি।

জার্মানির বার্লিনভিত্তিক স্বাধীন, অলাভজনক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ইএসওএইচআর সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পরিসংখ্যান ও সংশ্লিষ্ট মামলাগুলো পর্যবেক্ষণ করে। সংস্থাটির দাবি, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে অনেক মামলার তথ্য প্রকাশ্যে আসে না। এতে বিচারপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও বন্দীদের অধিকার নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে।

ইএসওএইচআরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া ১০৮ জনের মধ্যে ৫৯ জন বিদেশি নাগরিক, যা মোট সংখ্যার প্রায় ৫৪ শতাংশ। সৌদি নাগরিক ছিলেন ৪৯ জন, অর্থাৎ প্রায় ৪৬ শতাংশ।

মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে বাংলাদেশ ছাড়াও ইথিওপিয়া, পাকিস্তান, সুদান, ইয়েমেন, সিরিয়া, জর্ডান, সোমালিয়া, মিসর, নাইজেরিয়া, বেনিন, ইরাক, কুয়েত, কেনিয়া, উগান্ডা ও আফগানিস্তানের নাগরিক রয়েছেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, অপরাধের ধরন বিবেচনায় মাদক-সংশ্লিষ্ট মামলায় ৭১ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের মামলায় কার্যকর হয়েছে ২৫টি মৃত্যুদণ্ড। রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত মামলায় ৯ জনের এবং অন্যান্য মামলায় তিনজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।

সংস্থাটির হিসাবে, মোট ১০৮টি মৃত্যুদণ্ডের মধ্যে ৮৩টি, অর্থাৎ প্রায় ৭৭ শতাংশ, এমন অপরাধের জন্য কার্যকর করা হয়েছে, যেগুলো সরাসরি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। এ ছাড়া ৮৪টি মৃত্যুদণ্ড বিচারকের বিবেচনামূলক ক্ষমতার আওতায় ‘তাজির’ বিধানে কার্যকর করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে মাদক-সংশ্লিষ্ট অপরাধকে ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ ধরনের মামলায় কার্যকর হওয়া ৭১টি মৃত্যুদণ্ডের মধ্যে ৪৯টি ছিল বিদেশি নাগরিকের বিরুদ্ধে। ইথিওপিয়া, পাকিস্তান, সুদান ও ইয়েমেনের নাগরিকদের মধ্যে এ ধরনের মৃত্যুদণ্ডের সংখ্যা বেশি বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

ইএসওএইচআরের দাবি, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে ১০৮টি মামলার মধ্যে ৯১টির তথ্য সংস্থাটি বা সংশ্লিষ্ট অন্য কোনো সংস্থা জানতে পারেনি। মোট মামলার প্রায় ৮৪ শতাংশের ক্ষেত্রে আগাম তথ্য না পাওয়ার বিষয়টি সৌদি আরবে বিচারপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

প্রতিবেদনে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত মামলায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে গত জুনে সৌদ আল-ফারাজের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কথা উল্লেখ করেছে সংস্থাটি। এর আগে জাতিসংঘের বেআইনি আটকবিষয়ক ওয়ার্কিং গ্রুপ তার আটকাদেশকে বেআইনি ও অযৌক্তিক বলে বিবেচনা করেছিল বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

এ ছাড়া ৯ এপ্রিল আলী আল-সুবাইতি নামের এক ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। সংস্থাটির ভাষ্য অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগগুলোর মধ্যে মাত্র ১২ বছর বয়সে বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার অভিযোগও ছিল।

ইএসওএইচআর বলেছে, শৈশবে সংঘটিত কথিত অপরাধের জন্য অন্তত পাচজন এখনো মৃত্যুদণ্ডের ঝুকিতে রয়েছেন। তাদের কয়েকজনের আটকাদেশ বেআইনি ঘোষণা করে মুক্তির আহ্বান জানিয়েছিল জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

শান্তিপূর্ণভাবে মতপ্রকাশের অভিযোগে দণ্ডিত আরও ৪৯ জন মৃত্যুদণ্ডের ঝুকিতে রয়েছেন বলেও দাবি করেছে সংস্থাটি। তাদের মধ্যে শেখ সালমান আল-আওদা ও শেখ হাসান আল-মালিকির নাম রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৮ সাল থেকে সরকারি কৌসুলিরা তাদের মৃত্যুদণ্ড দাবি করে এলেও বিচারপ্রক্রিয়া এখনো অমীমাংসিত।

সৌদি আরবের কয়েকটি কারাগারে মৃত্যুদণ্ডের ঝুকিতে থাকা বিদেশি বন্দীদের পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে ইএসওএইচআর। সংস্থাটির নথি অনুযায়ী, খামিস মুশাইত কারাগারে ৫৮ জন ইথিওপীয়, নাজরান কারাগারে পাচজন ইথিওপীয় ও পাচজন সোমালীয় এবং তাবুক কারাগারে আটজন মিসরীয় বন্দী মৃত্যুদণ্ডের ঝুঁকিতে রয়েছেন।

সংস্থাটির সঙ্গে কথা বলা বন্দীদের অভিযোগ, তাদের অনেকে পেশাদার দোভাষী, পর্যাপ্ত আইনি সহায়তা এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের কার্যকর সুযোগ পাননি। বিচারপ্রক্রিয়া বুঝতে না পারার বিষয়টিও তাদের জন্য বড় প্রতিবন্ধকতা বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বন্দীদের ভাষ্য অনুযায়ী, মৃত্যুদণ্ডের অপেক্ষায় থাকা ব্যক্তিদের কখনো কখনো অল্প সময়ের জন্য অন্যদের থেকে আলাদা রাখা হয় এবং বাইরের জগতের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে হঠাৎ দণ্ড কার্যকরের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। এসব অভিযোগের বিষয়ে প্রতিবেদনে সৌদি কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য উল্লেখ করা হয়নি।

ইএসওএইচআরের মতে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ধারাবাহিকতা এবং বিচারপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার ঘাটতি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন ও সৌদি আরবের আন্তর্জাতিক অঙ্গীকারের সঙ্গে সম্পর্কিত গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করছে। বিশেষ করে নির্যাতনবিরোধী কনভেনশন ও শিশু অধিকার সনদের অধীনে দেশটির দায়বদ্ধতা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে সংস্থাটি।

এদিকে, সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কার একটি মসজিদে ‘অনৈতিক কাজ’ করার অপরাধে দোষী সাব্যস্ত দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে বলে সম্প্রতি জানিয়েছে সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ)। সংস্থাটির প্রতিবেদনে সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাতে ১৪ অক্টোবর এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।

মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশি হলেন নজরুল ইসলাম আবদুল বাসির ও সিতি আখতার। প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়েছে, গ্রেপ্তারের পর তদন্ত শেষে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে আদালতে পাঠানো হয়। শরিয়াহ আইনের অধীনে ‘তাজির’ বিধান প্রয়োগ করে আদালত তাঁদের মৃত্যুদণ্ড দেন বলে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সামগ্রিক পরিসংখ্যানের মধ্যে বাংলাদেশি নাগরিকদের ঘটনাও দেশটিতে বিদেশি শ্রমিক ও অন্যান্য নাগরিকের আইনি সুরক্ষা, বিচারপ্রক্রিয়া এবং মৃত্যুদণ্ডের প্রয়োগ নিয়ে নতুন করে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
  বিষয়:   সৌদি আরব  মৃত্যুদণ্ড  বাংলাদেশি নাগরিক  মানবাধিকার 


আন্তর্জাতিক- এর আরোও খরব 
সম্পাদক ও প্রকাশক : শফিক রেহমান
অফিস:
যায়যায়দিন মিডিয়াপ্লেক্স
৪৪৬ ই+এফ+জি, লাভ রোড, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল, ঢাকা ১২০৮
ইমেইল : [email protected]
বিভাগীয় ফোন:
অনলাইন নিউজ- ০১৩৩৫১০৭৭০১, ০১৫৭২১৭৩৭৭৭
বিজ্ঞাপন বিভাগ- ০১৯১২২৯২৩১৩, ০১৭১১১৭৫৩৩১
সার্কুলেশন বিভাগ- ০১৭১২৩৮০৩২৫, ০১৮৩৪৮০০৮৭৭
© ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত