ছবি-যাযাদি ৬৪ বিজিবি’র দুইটি পৃথক অভিযানে টেকনাফের হোয়াইক্যং এবং পালংখালী এলাকা হতে ইয়াবা চোরাচালানের সময় প্রায় ১৩ কোটি ৮০ লক্ষ টাকা মূল্যের আনুমানিক ৪ লক্ষ ৬০ হাজার পিস ইয়াবাসহ ০৪ জন মাদককারবারী আটক করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
আজ মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর ২০২৬) উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি)’র অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মোঃ জহিরুল ইসলাম, জি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, গত ১৯ অক্টোবর ২০২৬ ইংরেজি তারিখ আনুমানিক রাত ৮.১০টায় মৌলভীবাজার, টেকনাফ থেকে চট্টগ্রামগামী একটি ডাবল কেবিন পিকআপ (যার রেজিস্টেশন নম্বর চট্ট মেট্রো-ঠ-১১-০৩০৯) হোয়াইক্যং চেকপোস্টের নিকট আসলে কর্তব্যরত বিজিবি সদস্যদের সন্দেহ হলে তল্লাশী কার্যক্রম পরিচালনার সময় পিকআপের পিছনে সীট কভারের নিচে বিশেষ কায়দায় লুকানো অবস্থায় ১,২০,০০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। আটক করা হয় পিকআপের চালক মোঃ সাইফুল ইসলাম (৩১), পিতা-মোঃ নুরুল ইসলাম, মাতা-আমেনা, গ্রাম-গোসাইল ডাঙ্গা, থানা-ডবল মুড়িং ও জেলা-চট্টগ্রাম এবং জব্দ করা হয় মাদক পাচারের কাজে ব্যবহৃত পিকআপ ও মোবাইল ফোন।
একইদিন আরেকটি পৃথক অভিযানে আনুমানিক রাত ৯টায় পালংখালী বিওপি’র বিশেষ টহল দল দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় বাংলাদেশের অভ্যন্তরে সীমান্তবর্তী উলুবুনিয়া মাঝের কাঠি পাশে বেঁড়িবাধের উপর দিয়ে মায়ানমার দিক থেকে ০৩ জন ব্যক্তি পোটলা হাতে নিয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে দেখে সন্দেহ হয়। বিজিবি টহল দল (১) রাসেল (২৩), পিতা-মৃত কাদের, মাতা-মৃত রেহেনা বেগম, গ্রাম-কাটাখাল, (২) এফডিএমএন সদস্য খাইরুল আমিন (২৪), পিতা-মৃত ছিদ্দিক, মাতা-মৃত রোকেয়া, ক্যাম্প-০৪, বি ব্লক-০১ এবং (৩) শাকিল (২২), পিতাঃ বক্কর আহম্মেদ, মাতাঃ জবেদা বেগম, গ্রাম-কাটাখাল, সকলের থানা-উখিয়া ও জেলা-কক্সবাজারকে চ্যালেঞ্জ করলে তারা দৌড়িয়ে পালিয়ে যাওয়ার প্রাক্কালে বিজিবি সদস্যরা তাদেরকে ধাওয়া করে আটক করে। পরবর্তীতে তল্লাশী চালিয়ে এ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।
বিজিবি উর্দ্ধতন দপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করে। মাদককারবারীরা যতই বড় সিন্ডিকেট কিংবা অভিনব কায়দা অবলম্বন করুক না কেন বিজিবি তাদের আন্তরিকতা, দেশপ্রেম, পেশাদারিত্ব, দক্ষতা এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতার সমন্বয়ে মাদক চোরাচালান শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বিজিবির অধিনায়ক টেকনাফ ও উখিয়া এলাকায় যে সকল মাদক চোরাকারবারী আছে তাদের সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে বিজিবিকে সহায়তা করার জন্য অনুরোধ করেন। বিজিবি তাদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে আইনের আওতায় আনতে বদ্ধপরিকর। এ বিষয়ে তিনি সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।
উল্লেখ্য, কক্সবাজার রিজিয়নের রামু সেক্টরের অধীনস্থ উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি) প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই সীমান্ত সুরক্ষা, মাদক দমন ও অবৈধ চোরাচালান প্রতিরোধে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করে আসছে।