প্রকাশ: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৫১ পিএম
ছবি: যাযাদিগাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার কামালেরপাড়া মহাবিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের প্রভাষক মো. আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে শিক্ষক নিবন্ধন সনদ জালিয়াতি করে এমপিওভুক্ত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়েরের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছিল বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)। তবে নির্দেশনার পরও এখন পর্যন্ত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, ওই কলেজের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের প্রভাষক মো. আমিনুল ইসলাম (ইনডেক্স নম্বর: ঘ৫৬৮৯২১৯৬), পিতা মো. আব্দুর রউফ সরকার, শিক্ষক নিবন্ধন সনদ জালিয়াতির মাধ্যমে ২০২৩ সালে এমপিওভুক্ত হন বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপর থেকে তিনি ওই পদে চাকরি করে আসছেন।
কাগজপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, আমিনুল ইসলাম তাঁর শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার রোল নম্বর ২২১৯০৭২৮ এবং রেজিস্ট্রেশন নম্বর ৭০০৮০৫৫/২০০৭ উল্লেখ করেছেন। তিনি ২০০৭ সালের তৃতীয় শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার দাবি করেন। তবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে সংরক্ষিত ফলাফল যাচাই করে ওই রোল নম্বরটি উত্তীর্ণ প্রার্থীদের তালিকায় পাওয়া যায়নি বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
নথিতে আরও বলা হয়েছে, যাচাই-বাছাইয়ের পর উপস্থাপিত কাগজপত্রে জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়ার বিষয়টি প্রতীয়মান হয়েছে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়েরের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রতিষ্ঠানকে অনুরোধ জানানো হয়।
এনটিআরসিএর সহকারী পরিচালক (পরীক্ষা মূল্যায়ন ও প্রত্যয়ন-৩) ড. এস এম আতিয়ার রহমান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে শিক্ষক নিবন্ধন প্রত্যয়নপত্র জালিয়াতির বিষয়টি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরকে অবহিত করার কথাও নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
তবে মামলা দায়েরের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও কলেজ কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত কোনো আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। ব্যবস্থা চেয়ে মানবাধিকারকর্মীর আবেদন এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে গাইবান্ধার মানবাধিকারকর্মী শফিউল ইসলাম স্বাক্ষরিত একটি আবেদন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের রংপুর অঞ্চলের পরিচালকের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।
আবেদনে অভিযোগটির বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে বলে জানা গেছে। অভিযোগের বিষয়ে কামালেরপাড়া মহাবিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের প্রভাষক মো. আমিনুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি সংবাদটি প্রকাশ না করার অনুরোধ জানান।
কলেজের অধ্যক্ষ মো. মাজেদুল ইসলাম মণ্ডলের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, কর্তৃপক্ষ আবারও কোনো নির্দেশ দিলে আমি ব্যবস্থা নেব। এ বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের রংপুর অঞ্চলের পরিচালক অধ্যাপক মো. গোলাম মজেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।