
শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে বগুড়া-১ আসনের সংসদ সদস্য কাজী রফিকুল ইসলামের নির্দেশনায়, সারিয়াকান্দি উপজেলার কুতুবপুর, কর্ণিবাড়ি কামালপুর ইউনিয়নের আটটি পুজামন্ডপ ও মন্দির পরিদর্শন করেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি কাজী এরফানুর রহমান রেন্টু।
পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা,শান্তিপূর্ণ পরিবেশ এবং নির্বিঘ্নে ধর্মীয় উৎসব উদযাপন নিশ্চিত করতে তিনি মন্দিরগুলো পরিদর্শন করেন।
রবিবার (১৮ অক্টোবর) রাতে উপজেলার ৩টি ইউনিয়নের আটটি পুজা মন্ডপ ও মন্দির তিনি পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি সকল মন্দিরের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলেন।এই সময় তিনি মন্দিরগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থা ও পূজা উদযাপনের সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজ খবর নেন।
দেবডাঙ্গা চরকুমার সার্বজনীন মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক ও পুরোহিত প্রলয় কৃষ্ণ চক্রবর্তী বলেন, আমদের দুর্গাপূজার সময় অতীতের সকল সরকার ৫০০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দিতো পুজামন্ডপের অনুদান হিসেবে। কিন্তু এবারের বিএনপি সরকার সনাতনী ধর্মালম্বীদের পুজা উদযাপনের জন্য প্রতিটি পুজা মন্ডপের জন্য ৬০০ কেজি চাল, দুস্থ নারীদের জন্য শাড়ি দিয়েছে। এছাড়া আরও ১৫ টি মন্দিরে সংস্কার করার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে ১ লক্ষ টাকা করে অনুদান দিয়েছে। জেলা পরিষদ থেকে ৫ হাজার টাকা ও আমাদের এমপি কাজী রফিকুল ইসলাম সব মন্দিরে ১০ হাজার টাকা করে তার ব্যাক্তিগত তহবিল থেকে দিয়েছে। এই জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও আমাদের এমপিকে সনাতনী ধর্মালম্বীদের পক্ষ থেকে আমি ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
কড়িতলা বাজার রবিদাস সম্প্রদায়ের সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরের সভাপতি বিজয় রবিদাস বলেন,
অতীতের সরকারের আমলে আমাদের চালের ডিও লেটার নিয়ে সিন্ডিকেট হতো। তারা জোর করে চাউলের ডিও নিয়ে তাদের ইচ্ছে মতো দাম আমাদের দিতো তাই নিতে বাধ্য হতাম আমরা। এবার আমাদের এমপি কাজী রফিকুল ইসলাম একদম কঠোর নির্দেশনা থাকায় চালের ডিও নিয়ে কোন সিন্ডিকেট হয়নি। বিএনপির সকল স্তরের নেতাকর্মী আমাদের সার্বক্ষণিক খোজ খবর নিচ্ছে আমরা একদম নির্ভয়ে আমাদের পুজা উদযাপন করছি। এই জন্য এমপিকে আমি সনাতনী ধর্মালম্বীদের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
পুজা মন্ডপ ও মন্দিরগুলো পরিদর্শনকালে উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি, কাজী এরফানুর রহমান সকল পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দকে আশ্বস্ত করে বলেন, পূজাকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা যেন সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। ধর্মীয় উৎসব যেন শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্ন পরিবেশে উদযাপন করা যায়।সে জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি। এ সময় মন্দিরগুলোর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে পুজা উদযাপনের কমিটির সকলকে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখতে বলেন। এছাড়াও দলের সকল নেতাকর্মীদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।
তিনি আরও বলেন, পূজামণ্ডপগুলোতে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং দর্শনার্থীদের নিরাপদে পূজা উদযাপনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে যে যে পদক্ষেপ নেওয়া দরকার আমাদের সরকার তার সকল ব্যাবসস্হা নিয়েছে। আমাদের সংসদ সদস্য কাজী রফিকুল ইসলামের নির্দেশে আমরা পূজা উপলক্ষে মন্দিরগুলোতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি অক্ষুণ্ন রাখতে সংশ্লিষ্ট সকলের চেষ্টা অবয়াহত রয়েছে।
পরিদর্শন কালে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাহজাত হোসেন পল্টন, ফুলবাড়ী ইউনিয়ন বিএনপি নেতা এম আর রফিক ও কামালপুর ইউনিয়ন বিএনপি নেতা হামিদুল হক হিলটু, কর্ণিবাড়ি ইউনিয়ন বিএনপি নেতা বিপ্লব, বিএনপি নেতা তোফায়েল আহমেদ, যুবদলের আহ্বায়ক মহিদুল ইসলাম মুন্সি, ১ নং সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এ এম রুবেল আলম, পৌর যুবদলের আহ্বায়ক সৈকত মাহমুদ, যুবদল নেতা ইন্জিয়ার নয়ন, সাঈদ শেখ ও বাবু, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা হান্নান ও সেলিম রেজা, উপজেলা ছাএদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নিপ্পন মন্ডল বাবুলসহ উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।