প্রকাশ: রোববার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৩৯ পিএম

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় মোবাইল ফোন নিয়ে বিরোধের জেরে মো. রিয়াজ (২২) নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এঘটনায় নিহতের মা বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা দায়েরের পর অভিযান পরিচালনা করে ৪ জনকে আটক করেছে সাতকানিয়া থানা পুলিশ।
নিহত মো. রিয়াজ সাতকানিয়া সদর ইউনিয়নের বারদোনা মোল্লাপাড়ার বাসিন্দা ড্রাইভার নাজিম উদ্দিনের ছেলে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।
এর আগে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার সাতকানিয়া সদর ইউনিয়নের শাহ মজিদিয়া মার্কেট এলাকায় মো. রিয়াজকে মারধরের ঘটনা ঘটে।
এঘটনায় আটক ব্যক্তিরা হলেন- কামরুল হাসান, সাইমুন উদ্দিন শাকিল, মো. অনিক হাসান ও মো. ফরহাদ।
নিহতের মা রোজিনা আকতার মামলায় অভিযোগ করেন, গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে রিয়াজের বন্ধু মোঃ শাহাদাত (৩০), মোঃ জায়েদ (২৫), মোঃ আব্বাস (৩০), অনিক (৩০), মোঃ ফরহাদ (২৫) সহ কয়েকজন রিয়াজকে বাড়ি থেকে ডেকে স্থানীয় শাহ মজিদিয়া মার্কেট এলাকার একটি দোকানে নিয়ে যান। সেখানে রিয়াজের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি নিজের বলে দাবি করেন এক বন্ধু। এ নিয়ে রিয়াজের সঙ্গে তাদের তর্ক-বিতর্ক হয়। একপর্যায়ে তারা কাঠের বাটাম দিয়ে রিয়াজকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, মারধরে রিয়াজের মাথা, নাক ও মুখে গুরুতর জখম হয় এবং তার মুখের কয়েকটি দাঁত পড়ে যায়। প্রাণ বাঁচাতে রিয়াজ পাশের একটি ফার্মেসিতে আশ্রয় নিলেও হামলাকারীরা তাকে সেখান থেকে টেনে বের করে নাছির নামের এক ব্যক্তির দোকানের সামনে সড়কে নিয়ে আবারও মারধর করেন। পরে তারা তাকে আহত অবস্থায় সড়কে ফেলে রেখে চলে যান।
পরে স্থানীয় লোকজন ও রিয়াজের চাচা মো. জহির তাকে উদ্ধার করে লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানেই নিবিড় চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার (১৫ অক্টোবর) সকালে তার মৃত্যু হয়।
এব্যাপারে নিহতের মা রোজিনা আকতার বাদী হয়ে ৫জনের নাম উল্লেখসহ কয়েকজনকে অজ্ঞাত রেখে সাতকানিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে এজাহারভুক্ত ২জনসহ মোট ৪জনকে আটক করতে সক্ষম হয়।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাতকানিয়া সার্কেল) মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, হত্যাকান্ডে জড়িত অন্যান্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।