চুনারুঘাটে তরুণীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, আটক এক

চুনারুঘাট প্রতিনিধি

সারাদেশ

হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে এক তরুণীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। ভুক্তভোগী তরুণীর পরিবারের দাবি, এ ঘটনায় ছয়জন জড়িত।

2026-10-18T15:05:19+06:00
2026-10-18T15:05:19+06:00
রোববার ● ১৮ অক্টোবর ২০২৬
২ কার্তিক ১৪৩৩
শিরোনাম:
● গাজায় ধ্বংসস্তূপ থেকে ৭৫ মরদেহ উদ্ধার, একসঙ্গে জানাজা ও দাফন      ● জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে উত্তাল ইউরোপ, ফ্রান্স-ইতালি-বেলজিয়াম-পর্তুগালে বিক্ষোভ      ● কাতারে গ্রেপ্তার বিমানবাহিনীর সাবেক প্রধান শেখ আব্দুল হান্নান      ● গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে সংস্কার বাস্তবায়নে ধীরগতি ও দুর্নীতি নিয়ে যুক্তরাজ্যের উদ্বেগ      ● ডিজিটাল সংবাদমাধ্যমের দাপটে হারাচ্ছে ছাপা পত্রিকার পাঠক      ● ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে সবুজায়ন কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী      ● বাংলাদেশ শ্রদ্ধা ও সমতার ভিত্তিতে সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা সুদৃঢ় করতে চায়       
সারাদেশ
চুনারুঘাটে তরুণীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, আটক এক
চুনারুঘাট প্রতিনিধি
প্রকাশ: রোববার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:০৫ পিএম  
প্রতীকী ছবি
হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে এক তরুণীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। ভুক্তভোগী তরুণীর পরিবারের দাবি, এ ঘটনায় ছয়জন জড়িত। অভিযুক্ত যুবককে শনাক্ত ও আটক করানোর উদ্দেশ্যে তার ছোট বোনের মাধ্যমে যোগাযোগের কৌশল নেওয়া হয় বলে জানিয়েছে পরিবার। গত ১৭ অক্টোবর বিকেলে চুনারুঘাট থানার সামনে ওই যুবককে ধর্ষক বলে চিৎকার করে জুতা দিয়ে মারধরের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাটি নিয়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

পরিবারের দাবি, ভুক্তভোগী সুমি আক্তার (২৬) ও তার ছোট বোন চুনারুঘাট উপজেলার দেওরগাছ ইউনিয়নের আজিমাবাদ গ্রামের আব্দুল নূরের মেয়ে। তবে ঘটনার বিষয়ে পুলিশের তদন্ত চলছে। অভিযোগের সব তথ্য এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

সুমির বড় ভাই মাসুম আহমেদ জানান, তার দুই বোন অলিপুরের প্রাণ-আরএফএল কোম্পানিতে চাকরি করতেন। শারীরিক অসুস্থতার কারণে প্রায় এক বছর আগে সুমি চাকরি ছেড়ে দেন। পরে আর্থিক সংকটের কারণে গত ৭ অক্টোবর সুস্থ হয়ে পুনরায় চাকরিতে যোগ দিতে কোম্পানিতে যান তিনি।

মাসুমের ভাষ্য অনুযায়ী, কোম্পানিতে প্রবেশের সময় সুমি দেখতে পান, তার আগের ফিঙ্গারপ্রিন্টের তথ্য রয়ে গেছে। পুনরায় চাকরিতে যোগ দিতে ওই তথ্য মুছে ফেলা প্রয়োজন ছিল। এ সময় কোম্পানিতে কর্মরত এক যুবক তাঁকে সহযোগিতার আশ্বাস দেন। ওই যুবক জানান, শায়েস্তাগঞ্জে তাঁর এক বন্ধুর কম্পিউটারের দোকান রয়েছে, সেখানে গেলে সমস্যার সমাধান হতে পারে।

পরিবারের অভিযোগ, এরপর ওই যুবক সুমিকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় উঠতে বলেন। চলন্ত অবস্থায় আরও এক যুবক ওই অটোরিকশায় ওঠেন। তার হাতে ধারালো চাকু ছিল বলে দাবি পরিবারের। পরে অটোরিকশাটি নির্জন ও জঙ্গলে ঘেরা একটি চা-বাগান এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়।

মাসুম আহমেদের অভিযোগ, সেখানে প্রথমে ওই যুবক এবং পরে আরও পাচজন মিলে সুমিকে দলবদ্ধ ধর্ষণ করেন। পরে প্রথম অভিযুক্তই তাকে অন্য একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে দেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
হাসপাতালে পরীক্ষার দাবি পরিবারের

মাসুম আহমেদ জানান, অভিযুক্ত প্রথম যুবকের নাম সম্ভবত বাছির। তার বাড়ি লালচান এলাকায় হতে পারে এবং তিনি প্রাণ-আরএফএল কোম্পানির বলপেন শাখায় কাজ করেন বলে পরিবারের ধারণা। তবে তার পূর্ণ পরিচয় ও অন্য পাঁচজনের পরিচয় সম্পর্কে সুমি নিশ্চিত ছিলেন না বলে জানান মাসুম।

পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার কথা জানার পর গত ৮ অক্টোবর সুমিকে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে ধর্ষণ-সংক্রান্ত পরীক্ষা করানো হয়েছে এবং পরীক্ষায় ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে বলে দাবি করেন মাসুম। তবে এ বিষয়ে হাসপাতালের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন বা বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

মাসুম আহমেদের দাবি, পরবর্তী সময়ে খোজখবর নিয়ে তারা প্রাণ-আরএফএল কোম্পানিতে ওই যুবকের সন্ধান পান। তাকে শনাক্ত ও আটক করানোর উদ্দেশ্যে সুমির ছোট বোনের মাধ্যমে তাঁর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলার কৌশল নেওয়া হয়।

পরিবারের দাবি, ওই যুবক জানতেন না যে তার সঙ্গে যোগাযোগ রাখা তরুণী সুমির ছোট বোন। তার সঙ্গে দেখা করতে এসে চুনারুঘাট থানার সামনে পৌছালে সুমি ও তার ছোট বোন তাকে ধর্ষক বলে অভিযোগ করেন এবং জুতা দিয়ে মারধর করেন। পরে পুলিশ তাকে আটক করে বলে জানিয়েছে পরিবার।

মাসুম আহমেদ বলেন, তারা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সংশ্লিষ্ট সবার পরিচয় নিশ্চিত করে থানায় মামলা করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিস্তারিত তথ্য জানানো সম্ভব নয়। অভিযোগকারী পক্ষের কাছ থেকে মামলা পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।

মাসুম আহমেদ অভিযোগ করেন, ঘটনার প্রকৃত বিবরণ না জেনেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু মানুষ আংশিক ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছেন, যা তাদের জন্য বিব্রতকর। তিনি জানান, এ পর্যন্ত তারা আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সংবাদ সম্মেলন বা প্রেস ব্রিফিং করেননি। ঘটনার বিস্তারিত তথ্য পরবর্তী সময়ে জানানো হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা চললেও অভিযুক্ত যুবকের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ, অন্য পাচজনের পরিচয় এবং ঘটনার বিস্তারিত এখনো তদন্তের অপেক্ষায় রয়েছে। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে পুলিশের তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তথ্য গুরুত্বপূর্ণ।
  বিষয়:   চুনারুঘাট  দলবদ্ধ ধর্ষণ  হবিগঞ্জ  পুলিশি 


সারাদেশ- এর আরোও খরব 
সম্পাদক ও প্রকাশক : শফিক রেহমান
অফিস:
যায়যায়দিন মিডিয়াপ্লেক্স
৪৪৬ ই+এফ+জি তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল, ঢাকা ১২০৮
ইমেইল : [email protected]
বিভাগীয় ফোন:
অনলাইন নিউজ- ০১৩৩৫১০৭৭০১, ০১৫৭২১৭৩৭৭৭
বিজ্ঞাপন বিভাগ- ০১৯১২২৯২৩১৩, ০১৭১১১৭৫৩৩১
সার্কুলেশন বিভাগ- ০১৭১২৩৮০৩২৫, ০১৮৩৪৮০০৮৭৭
© ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত