ছবি: যাযাদিপিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাই কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় মোট ৫৪ হাজার ১৭০ জনের তথ্য যাচাই করা হবে। এ কার্যক্রম সম্পন্ন করতে ৪৫ দিন সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় নেছারাবাদ উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত প্রস্তুতিমূলক সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব তথ্য জানান গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহমেদ সোহেল মনজুর সুমন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ফ্যামিলি কার্ড প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী ইশতেহারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকার। এ কর্মসূচির আওতায় কার্ড বিতরণে কোনো ধরনের দলীয় বিবেচনা, পক্ষপাতিত্ব বা অনিয়ম করা যাবে না। প্রকৃত দুস্থ, অসহায় ও যোগ্য পরিবারকে চিহ্নিত করতে নিরপেক্ষভাবে তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাই করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে দেশের ১৪টি উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম শুরু হচ্ছে, যার মধ্যে নেছারাবাদও রয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশের সব যোগ্য পরিবারকে এ কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। কর্মসূচি সফল করতে মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারদের সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আশিক আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় জানানো হয়, উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাই কার্যক্রম পরিচালিত হবে। নির্ধারিত ৪৫ দিনের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্যে মাঠপর্যায়ে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
সভাপতির বক্তব্যে ইউএনও আশিক আহমেদ বলেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির জন্য প্রকৃত উপকারভোগীদের সঠিকভাবে চিহ্নিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারদের সমন্বয়ে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রেখে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার চেষ্টা করা হবে।
সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রায়হান মাহমুদ, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সালাউদ্দিন শেখ, পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক মেয়র শফিকুল ইসলাম ফরিদ, উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাসির উদ্দিন তালুকদার, পৌর বিএনপির সভাপতি কামাল কাজী, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদকসহ স্থানীয় সাংবাদিক, মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজাররা।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত উপকারভোগীদের চিহ্নিত করে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে। এর মাধ্যমে সামাজিক সুরক্ষা জোরদার এবং অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের জীবনমান উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।