মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন বাগেরহাট জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট ফারহানা জাহান নিপা।ঢাকা-২৩ নম্বর সংরক্ষিত নারী আসনের উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার লক্ষ্যে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন বাগেরহাট জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট ফারহানা জাহান নিপা।
শনিবার নয়া পল্টনের বিএনপির কার্যালয়ে তিনি জমা দেন। মনোনয়ন পাওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি বলেছেন, দল ও দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করার সুযোগ চান। এ জন্য সবার দোয়া, ভালোবাসা ও সহযোগিতা কামনা করেছেন তিনি।
মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ফারহানা জাহান নিপা বলেন, “ইনশাআল্লাহ, ভালো কিছু হবে—এই প্রত্যাশা ও বিশ্বাস নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চাই। দল ও দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করার সুযোগ চাই। আপনাদের দোয়া, ভালোবাসা ও সহযোগিতা আমার আগামীর পথচলার প্রেরণা।”
তিনি আরও বলেন, “সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন, যেন দেশ ও দলের স্বার্থে সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করতে পারি। ইনশাআল্লাহ, মানুষের ভালোবাসা ও দোয়ায় এগিয়ে যাব।”
এর আগে শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকালে রাজধানীতে বিএনপির দলীয় কার্যালয় থেকে তিনি দলীয় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। ফেরদৌসী আক্তার মিষ্টির পদত্যাগের কারণে আসনটি শূন্য হয়। এই আসনের উপনির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন পেতে একাধিক নারী নেত্রী আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ফারহানা জাহান নিপা।
বীর মুক্তিযোদ্ধা শামসুল আলম তালুকদারের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার অ্যাডভোকেট ফারহানা জাহান নিপার বাবা প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা শামসুল আলম তালুকদার বাগেরহাটের রাজনীতিতে পরিচিত ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তিনি বাগেরহাট জেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি সুন্দরবন সাব-সেক্টরের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড ছিলেন। এ ছাড়া তিনি মুক্তিযুদ্ধ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের সাবেক যুগ্ম মহাসচিব ছিলেন বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।
শামসুল আলম তালুকদার বাগেরহাট-৪ সংসদীয় আসন থেকে তিনবার সংসদ নির্বাচনে অংশ নেন। মুক্তিযুদ্ধ, দলীয় রাজনীতি ও নির্বাচনী কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে তিনি নিজের রাজনৈতিক পরিচিতি গড়ে তোলেন।
বাবার মৃত্যুর পর তাঁর জ্যেষ্ঠ কন্যা ফারহানা জাহান নিপা বাগেরহাটের রাজনীতিতে সক্রিয় হন। পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্যের পাশাপাশি দলীয় সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড ও সামাজিক উদ্যোগের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক পরিসরে ভূমিকা রাখার চেষ্টা করছেন তিনি।
বাগেরহাট জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হিসেবে স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত রয়েছেন ফারহানা জাহান নিপা। দলীয় কর্মসূচি, রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রাম ও সাংগঠনিক কার্যক্রমের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক উদ্যোগেও তাঁর সম্পৃক্ততা রয়েছে।
শিক্ষা বিস্তার, সামাজিক উন্নয়ন ও সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ করার বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেন তিনি। স্থানীয় রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে জাতীয় পর্যায়ে ভূমিকা রাখার প্রত্যাশা থেকেই সংরক্ষিত নারী আসনের উপনির্বাচনে অংশ নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন এই বিএনপি নেত্রী।
শেখ হাসিনার শাসনামলে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নেওয়ার কারণে একাধিক মামলা ও কারাবরণের অভিজ্ঞতা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ফারহানা জাহান নিপা।
তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধান মন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে রায় ঘোষণার দিন ঢাকায় আন্দোলন চলাকালে তিনি গ্রেপ্তার হন। ওই সময় তাঁকে দীর্ঘদিন কারাগারে থাকতে হয় বলেও জানান তিনি।
নিজের বক্তব্যে ফারহানা জাহান নিপা দাবি করেন, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিভিন্ন পর্যায়ে তাঁর বিরুদ্ধে মোট ১৭টি মামলা হয়েছিল এবং তাঁকে প্রায় চার মাস কারাবরণ করতে হয়েছে। এসব অভিজ্ঞতার মধ্যেও দলীয় রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন বলে জানান তিনি।
সংরক্ষিত নারী আসনের উপনির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার আগে সরাসরি সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রত্যাশা ছিল ফারহানা জাহান নিপার। এর আগে বাগেরহাট-৪ সংসদীয় আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন পাওয়ার লক্ষ্যে তিনি একাধিকবার মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। পাশাপাশি সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য পদে মনোনয়ন পাওয়ার প্রক্রিয়াতেও অংশ নেন।
বাগেরহাটের রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা, সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড ও আন্দোলন-সংগ্রামের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে জাতীয় পর্যায়ে কাজ করতে চান তিনি।
ঢাকা-২৩ সংরক্ষিত নারী আসনের উপনির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেলে নারী নেতৃত্বের বিকাশ, শিক্ষা, সামাজিক উন্নয়ন এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে কাজ করার প্রত্যাশা করছেন ফারহানা জাহান নিপা।
বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা শামসুল আলম তালুকদারের রাজনৈতিক ঐতিহ্য, নিজের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা ও আন্দোলন-সংগ্রামের অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করে সামনে এগিয়ে যেতে চান তিনি।
শূন্য হওয়া সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির চূড়ান্ত মনোনয়ন কে পাচ্ছেন, তা নিয়ে দলীয় নেতাকর্মী ও রাজনৈতিক মহলে আগ্রহ রয়েছে। একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশীর তৎপরতার পর এখন দলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন আগ্রহীরা। শেষ পর্যন্ত এই আসনে বিএনপির প্রার্থী কে হবেন, তা নির্ধারিত হবে দলীয় সিদ্ধান্তের মাধ্যমে।