কক্সবাজার থেকে ঢাকায় ট্রেনে যাচ্ছে ইয়াবা

পটিয়া প্রতিনিধি

সারাদেশ

কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রাম ও ঢাকাগামী ট্রেনকে ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক পাচারের রুট হিসেবে ব্যবহার করছে কারবারিরা। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, রেলপথে

2026-10-15T19:41:06+06:00
2026-10-15T19:41:06+06:00
বৃহস্পতিবার ● ১৫ অক্টোবর ২০২৬
৩০ আশ্বিন ১৪৩৩
শিরোনাম:
সারাদেশ
কক্সবাজার থেকে ঢাকায় ট্রেনে যাচ্ছে ইয়াবা
পটিয়া প্রতিনিধি
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৪১ পিএম  
ছবি: যাযাদি
কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রাম ও ঢাকাগামী ট্রেনকে ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক পাচারের রুট হিসেবে ব্যবহার করছে কারবারিরা। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, রেলপথে নজরদারির ঘাটতি, ট্রেনে তল্লাশির সীমাবদ্ধতা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর সমন্বয়হীনতার সুযোগে বাড়ছে মাদক পরিবহন। বিশেষ করে ঢাকাগামী ট্রেনে কক্সবাজার থেকে বেশি ইয়াবা পাচার হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক রামেশ্বর দাশ জানান, ট্রেনকেন্দ্রিক মাদক নিয়ন্ত্রণে বিশেষ টিম গঠন, কক্সবাজার রেলস্টেশনে ড্রাগ স্ক্যানার মেশিন স্থাপন এবং কয়েকটি স্টেশনে ট্রেনের বিরতির সময় বাড়ানোর প্রস্তাব ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে দেওয়া হয়েছে। এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়ন না হলে ট্রেনে ইয়াবাসহ অন্যান্য মাদক পাচার ঠেকানো কঠিন হবে বলে তিনি মনে করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্যমতে, চলন্ত ট্রেনে অভিযান পরিচালনার জন্য পৃথক পুলিশ দল কিংবা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বিশেষ কোনো বাহিনী গঠন করা হয়নি। হাইওয়ে পুলিশ, থানা পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ইউনিটগুলো নির্ধারিত কর্মপরিধি এবং জনবল ও সময়ের সীমাবদ্ধতার কারণে ট্রেনে নিয়মিত অভিযান চালাতে পারছে না।

কক্সবাজার-চট্টগ্রাম রুটে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে ট্রেন চলাচল শুরু হয়। বর্তমানে এ রুটে চারটি ট্রেন চলাচল করছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। রেলপথ চালুর আগে মহাসড়ক দিয়ে ইয়াবা পাচারের সময় বিপুল পরিমাণ মাদকের চালান আটক করত পুলিশ। ট্রেন চলাচল শুরুর পর সড়কপথে ইয়াবা পাচার কমেছে বলে দাবি সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর।

এ রুটে লোকাল ও বিরতিহীন, দুই ধরনের ট্রেন চলাচল করে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, লোকাল ট্রেনের তুলনায় বিরতিহীন ট্রেনে কক্সবাজার থেকে বেশি ইয়াবা পাচার হচ্ছে।

ট্রেনের স্বল্প বিরতিও তল্লাশির ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাড়িয়েছে। লোকাল ট্রেনগুলো কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামে যাওয়ার পথে পাঁচ থেকে ছয়টি স্টেশনে দুই থেকে পাঁচ মিনিট করে থামে। অন্যদিকে, কক্সবাজার-ঢাকা রুটের ট্রেনটি চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে মাত্র ১৫ মিনিটের জন্য বিরতি দেয়। ফলে সুনির্দিষ্ট তথ্য থাকলেও বিশাল ট্রেনে অল্প সময়ে তল্লাশি চালানো কঠিন হয়ে পড়ে।

সূত্রগুলোর দাবি, ঢাকাগামী ট্রেনে ইয়াবা পাচারের সঙ্গে জড়িত অনেক কারবারি কক্সবাজারের প্রধান রেলস্টেশন থেকে মাদক নিয়ে ওঠে। অন্যদিকে, চট্টগ্রামগামী ট্রেনে কক্সবাজারের প্রধান স্টেশন ছাড়াও আশপাশের কয়েকটি স্টেশন থেকে ইয়াবার চালান নিয়ে ওঠে পাচারকারীরা। নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌছে তারা সড়কপথে এসব মাদক বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে দেয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর কর্মপরিধিও অভিযান পরিচালনায় সীমাবদ্ধতা তৈরি করছে। ট্রেন এক জেলার সীমানা পেরিয়ে অন্য জেলায় প্রবেশ করলেও সংশ্লিষ্ট বাহিনীর সদস্যদের দায়িত্ব নির্দিষ্ট এলাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ। ফলে আন্তজেলা রুটে চলাচলকারী ট্রেনে অভিযান পরিচালনায় সমন্বিত ব্যবস্থার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, গত আড়াই বছরে দেশের উত্তরাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় ইয়াবার সহজলভ্যতা বেড়েছে। আগে চট্টগ্রামের বাইরে বড় চালান আটকের ঘটনা তুলনামূলকভাবে কম দেখা গেলেও বর্তমানে ঢাকা, সিলেটসহ বিভিন্ন স্থানে ইয়াবার বড় চালান আটকের খবর পাওয়া যাচ্ছে।

রেলপথে মাদক পাচার ঠেকাতে কার্যকর নজরদারি, বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে অভিযান এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের প্রস্তাবিত পদক্ষেপ দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
  বিষয়:   ইয়াবা পাচার  কক্সবাজার  রেলপথ  মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ  চট্টগ্রাম 


সারাদেশ- এর আরোও খরব 
সম্পাদক ও প্রকাশক : শফিক রেহমান
অফিস:
যায়যায়দিন মিডিয়াপ্লেক্স
৪৪৬ ই+এফ+জি তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল, ঢাকা ১২০৮
ইমেইল : [email protected]
বিভাগীয় ফোন:
অনলাইন নিউজ- ০১৩৩৫১০৭৭০১, ০১৫৭২১৭৩৭৭৭
বিজ্ঞাপন বিভাগ- ০১৯১২২৯২৩১৩, ০১৭১১১৭৫৩৩১
সার্কুলেশন বিভাগ- ০১৭১২৩৮০৩২৫, ০১৮৩৪৮০০৮৭৭
© ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত