দেবী আসবেন ঘোড়ায় চেপে !

শাহীন রাজা

মতামত

দেবী এবার আসবেন ঘোড়ায় চড়ে । যাবেন যাবেন নৌকায় করে। হিন্দু শাস্ত্র মতে, ঘোটকের (ঘোড়া) অর্থ ছত্রভঙ্গ। ঘোটক বা ঘোড়ার

2026-10-14T22:06:58+06:00
2026-10-14T22:06:58+06:00
বৃহস্পতিবার ● ১৫ অক্টোবর ২০২৬
৩০ আশ্বিন ১৪৩৩
শিরোনাম:
মতামত
দেবী আসবেন ঘোড়ায় চেপে !
শাহীন রাজা
প্রকাশ: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:০৬ পিএম  
শাহীন রাজা
দেবী এবার আসবেন ঘোড়ায় চড়ে । যাবেন যাবেন নৌকায় করে। হিন্দু শাস্ত্র মতে, ঘোটকের (ঘোড়া) অর্থ ছত্রভঙ্গ। ঘোটক বা ঘোড়ার অর্থ সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির এলোমেলো অবস্থা। যুদ্ধ- বিগ্রহ, অশান্তি, বিপ্লব এইসবের আগাম সংকেত। আর গমন হচ্ছে নৌকায় চড়ে। নৌকা গমন বেশ শুভ হিসেবে ধরা হয়। এর অর্থ হচ্ছে, প্রকৃতিতে শস্যবৃদ্ধি ও সুজলা-সুফলা অবস্থা তৈরি হয়। তবে এর সাথে অতিবৃষ্টি বা বন্যার আশঙ্কার কথাও বলা হয়ে থাকে। ২০২৬ সালের সনাতন পঞ্জিকা মতে, দেবী দুর্গার আগমন ও গমনের বাহন কি হবে তা উল্লেখ করা হয়েছে।   এ বছর দেবীর আগমন ও গমন দুটো মিলিয়ে বলা যায়, বর্তমান বাংলাদেশ শঙ্কা এবং সম্ভাবনার পথে হাটছে। রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে দেশের মানুষ যেমন শঙ্কিত। তেমন নতুন নির্বাচিত সরকার মানুষের কল্যাণে নতুন সম্ভাবনা নিয়ে আসবে সেই আশাও মানুষের মধ্যে রয়েছে।  

২০২৪ সালের জুলাইয়ের ঐতিহাসিক গণ-অভুত্থান। এবং পরবর্তীতে ২০২৫-২০২৬ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন প্রেক্ষাপট সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘ ১৫ বছরের আওয়ামী  শাসনব্যবস্থার পতনের পর, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান  দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তবে ক্ষমতার পটপরিবর্তন হলেও দেশের রাজনীতির দীর্ঘস্থায়ী সংকট নির্মুল হয়নি। অর্থাৎ ক্ষমতার দ্বন্দ্ব এবং নেতিবাচক সংস্কৃতি আগের মতোই রয়ে গেছে। 

২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারী নির্বাচন পরবর্তীতে রাজনীতিতে আবার নতুন করে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব দেখে দিয়েছে। বর্তমানে রাজনীতিতে ক্ষমতার ত্রিমুখী মনস্তত্ত্ব ও টানাটানি চলছে। একদিকে রয়েছে ক্ষমতাসীন দল, যারা তাদের পূর্ণ মেয়াদ শেষ করতে চায়। অন্যদিকে বিরোধী দল, যারা দীর্ঘ বিরতির পর ক্ষমতায় ফিরে আসতে মরিয়া। এর পাশাপাশি আরেকটি পক্ষ আছে। বা নতুন রাজনৈতিক জোট। যারা নতুন সমীকরণে'র মাধ্যমে প্রথমবারের মতো  ক্ষমতায় যাওয়ার পরিকল্পনা করছে। বা স্বপ্ন দেখছে ! 

দেবী দুর্গা মর্ত্যে আসার আগ থেকেই দেশে অস্থিরতা বিরাজমান । বাংলাদেশে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি যা চলছে তা নিয়ে সবাই শঙ্কিত। কখন কি ঘটে তা কেউ বলতে পারবে না। দেশকে অরাজকতা বা নৈরাজ্যের পথে নিয়ে চলছে একটা গোষ্ঠী। চব্বিশে পরাজিত স্বৈরাচার আর একাত্তরের পরাজিত শক্তি এক হয়ে গেছে। ২০২৬ সালের নির্বাচনে-ও এই জোট দেশের অনেক জায়গায় এক হয়ে কাজ করেছে। এদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি হলো পরাজিত পক্ষ বিজয়ী পক্ষকে বিব্রত অবস্থায় ফেলে দেয়া। নির্বাচনের পর থেকেই সরকারকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলতে নানা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সবসময় সুযোগের অপেক্ষায় থাকে সরকারকে কিভাবে কখন বিপদে ফেলা যায়। দুই পরাজিত পক্ষ নানাভাবে মিথ্যা এবং গুজব ছড়িয়ে চলছে। পরাজিত গোষ্ঠী এবং সরকার এখন মুখোমুখি । যে কোন সময় দেশে বড় ধরনের সংঘাত দেখা দিতে পারে। এই সংঘাত থেকে দেশে বড় আকারের নৈরাজ্য সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। 

এদিকে সরকার পক্ষকে তেমন একটা কার্যকর মনে হচ্ছে না। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে প্রশাসন দিয়ে মোকাবেলা করতে গেলে তা নেতিবাচক ফল নিয়ে আসতে পারে। তাই রাজনীতিকে, রাজনীতি দিয়ে মোকাবেলা করা হবে বুদ্ধি বিবেচিত কাজ। এতে একদিকে যেমন দল গতিশীল এবং সুসংগঠিত হয়। তেমনি বিপরীত পক্ষ নেতিবাচক পরিকল্পনা নেয়ার ক্ষেত্রে দ্বিধাদ্বন্দে পড়ে যায়। এছাড়া দেশের জনগণের মাঝে সরকারের অস্তিত্ব নিয়ে আর কোন সংশয় থাকেনা সরকারকে, দল এবং সরকারি কার্যক্রম একসাথে এগিয়ে নেয়াই হবে উত্তম। 

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়। বিএনপি যতবারই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় এসেছে প্রতিবারই সেনাবাহিনীকে বিএনপির প্রতিপক্ষ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। এটা শুরু হয় আশির দশকে এরশাদের ক্ষমতা দখলের সময় থেকেই। স্বৈরাচার এরশাদ নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট সাত্তারকে অস্ত্রের জোরে সরিয়ে দেয়। এরকম একটা অগণতান্ত্রিক কাজকে আওয়ামী লীগের মতো গণতান্ত্রিক দল পরোক্ষভাবে সমর্থন দিয়ে বসে।আওয়ামী লীগের প্রসিডেন্ট শেখ হাসিনা বলে বসেন, "I am not unhappy) বা আমি অখুশি নই"। যারা সবসময় সেনা শাসনের বিরোধিতা করে আসছিলেন তারা কিভাবে এরশাদের ক্ষমতা দখলকে স্বাগত জানায়। এখান থেকেই সেনাবাহিনী, রাজনীতির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার হতে থাকে।

৯৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চালু হয়। ঐ নির্বাচনের আগ দিয়ে তৎকালীন সেনা প্রধান জেনারেল নাসিমের নেতৃত্বে সেনা অভ্যুত্থানের চেষ্টা চালানো হয়। সেই সময়কার প্রেসিডেন্ট আব্দুর রহমান বিশ্বাসের কাছে নাসিম পরাভূত হয়। যা তৃতীয় বিশ্বের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিরল। সেই সময় সেনাবাহিনীর আরেক গ্রুপ প্রেসিডেন্ট সাত্তারের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তা না হলে প্রেসিডেন্ট বিশ্বাসের কিছুই করার থাকতো না। তবে তারা সংবিধান সমুন্নত রাখতেই প্রেসিডেন্টের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। অথচ সেই সময়কার তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিচারপতি হাবিবুর রহমানের অবস্থান তেমন দৃঢ় ছিল না। সেনা অভ্যুত্থান ব্যর্থ হওয়ার পর তিনি জাতির উদ্দেশ্যে ভাষনে বলেন, "মাননীয় রাষ্ট্রপতি স্বীয় বিবেচনায় ও নিজ সিদ্ধান্তে কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।" এর মাধ্যমে তিনি সেনাপ্রধান জেনারেল নাসিমকে অপসারণের দায়ভার সম্পূর্ণ রাষ্ট্রপতির উপর চাপিয়ে দেন। গণতান্ত্রিককামী দেশের জনগণ আশা করেছিল, তিনি স্পষ্টভাবে সে সময়কার সেনা অভ্যুত্থানকে প্রত্যাখ্যান করবেন। সুশীল সমাজের প্রতিভূ হয়েও তিনি তা করেননি। এই অভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্য ছিল, ৯৬-এর নির্বাচনে যাতে বিএনপি কোনভাবেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে না পারে। 

এক/এগারোতে জেনারেল মঈনের নেতৃত্বে সফল সেনা অভ্যুত্থান ঘটে। তবে তা একটু ভিন্ন মাত্রায়। বাংলাদেশ ব্যাঙ্কের অবসরপ্রাপ্ত গভর্নরকে তত্ত্বাবধায়ক প্রধান করে এই অভ্যুত্থান ঘটে। এবং প্রচলিত হয় সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার। সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন হওয়ার পর আবারও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন,"এটি তাদের আন্দোলনের ফসল।" সেইসাথে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের একটি পদক্ষেপ হিসেবে স্বাগত জানিয়েছিলেন। উদ্দেশ্য একটাই বিএনপিকে রাজনীতি থেকে দুরে ঠেলে দেয়া। 

বিএনপির জন্য ট্র্যাজিক হলো, যে কয়জন সেনাপ্রধান বিএনপির বিরুদ্ধে অভ্যুত্থান ঘটিয়েছে তারা সকলেই বিএনপি সরকারের মনোনীত। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান থেকে শুরু করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া সকলেই একই ভুল করেছেন। বিএনপির বড় রাজনৈতিক দূর্বলতা হচ্ছে, তারা শত্রু-মিত্র শনাক্ত করতে ভুল করে। 

এবার-ও আবার সেনাবাহিনী নিয়ে নানা গুজব ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। যাতে আগামীতেও জল ঘোলা করে মাছ তোলা যায়। ৭১-এর পরাজিত এবং ২৪-এর বিতারিত দুই পক্ষই এই গুজব ছড়াচ্ছে। তবে তা আলাদা,আলাদা প্লাটফর্ম থেকে। যদি সফল হয় তাহলে অতীতের মতোই দুই পক্ষ এক হয়ে যাবে। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট  এদেশের মানুষ যে পরিবর্তন এনেছে। তা বাংলাদেশের রাজনৈতিক চালচিত্রে নতুন মাত্রা। মানুষ বুঝে গেছে তাঁদের শক্তি। কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলো এখনও তমসা'র মধ্যে রেয়ে গেছে। বর্তমান পরিবর্তিত বিশ্বে এখন রাজনীতি নিয়ে নতুন ভাবনা বা পরিকল্পনা নিতে হবে। যেখানে দেশের মানুষ হবে প্রধান বিবেচ্য।
মতামত- এর আরোও খরব 
সম্পাদক ও প্রকাশক : শফিক রেহমান
অফিস:
যায়যায়দিন মিডিয়াপ্লেক্স
৪৪৬ ই+এফ+জি তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল, ঢাকা ১২০৮
ইমেইল : [email protected]
বিভাগীয় ফোন:
অনলাইন নিউজ- ০১৩৩৫১০৭৭০১, ০১৫৭২১৭৩৭৭৭
বিজ্ঞাপন বিভাগ- ০১৯১২২৯২৩১৩, ০১৭১১১৭৫৩৩১
সার্কুলেশন বিভাগ- ০১৭১২৩৮০৩২৫, ০১৮৩৪৮০০৮৭৭
© ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত