ছবি: সংগৃহীত আবুধাবি টেস্টে জয়ের খুব কাছে গিয়েও শেষ পর্যন্ত হতাশ হতে হয়েছে বাংলাদেশকে। চতুর্থ দিন শেষে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ বাংলাদেশের হাতে থাকলেও পঞ্চম দিনে একাধিক সুযোগ হাতছাড়া করে ড্র মেনে নিতে হয়েছে নাজমুল হোসেন শান্তর দলকে। ৪৭৯ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শেষ দিনে সাত উইকেট হাতে নিয়ে ৩৪৭ রান প্রয়োজন ছিল আফগানিস্তানের। তবে জয়ের জন্য না খেলে উইকেট আগলে রেখে শেষ পর্যন্ত আট উইকেটে ৩৪৬ রান তুলে ম্যাচ ড্র করে আফগানরা।
শেষ দিনে বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল সাত উইকেট। দিন শেষে পাচ উইকেট নিতে পারলেও আফগান ব্যাটারদের দৃঢ়তায় জয় অধরাই থেকে যায়। সেদিকুল্লাহ আতালের ১১১ রানের ইনিংস এবং কায়েস আহমেদের অপরাজিত ৪৯ রান আফগানিস্তানকে পরাজয়ের মুখ থেকে রক্ষা করে।
ম্যাচ শেষে হতাশা লুকাননি বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, এটা সত্যিই খুব হতাশাজনক। আমরা সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারিনি।
সকালের সেশনেই গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ নষ্ট করে বাংলাদেশ। মেহেদী হাসান মিরাজের বলে শর্ট লেগে আতালের সহজ ক্যাচ ছাড়েন তানজিদ হাসান তামিম। তখন আতালের রান ছিল মাত্র ৩৭। পরে ৭০ রানে থাকার সময় তাকে স্টাম্পিং করার সুযোগও হাতছাড়া হয়। দুইবার জীবন পেয়ে শেষ পর্যন্ত ৩৩২ বলে ১১১ রান করেন আতাল। তাঁর ধৈর্যশীল ব্যাটিং বাংলাদেশের জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাড়ায়।
শেষ সেশনেও সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি বাংলাদেশ। আতাল আউট হওয়ার পর ম্যাচের বাকি ছিল ২১ ওভার। কিন্তু ১২২তম ওভারে পরপর দুই বলে রানআউটের সুযোগ নষ্ট করে ফিল্ডাররা। এরপর হাসান মাহমুদের বলে কায়েস আহমেদের সহজ ক্যাচ ছাড়েন বাংলাদেশের ফিল্ডাররা। সেই কায়েসই অপরাজিত ৪৯ রান করে আফগানিস্তানের ড্র নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
বাংলাদেশের সুযোগ হাতছাড়া করার আক্ষেপ থাকলেও আফগানিস্তানের লড়াইয়ের প্রশংসা করেছেন শান্ত। তার ভাষায়, আফগানিস্তান সত্যিই অসাধারণ খেলেছে। তারা দারুণ ক্রিকেট উপহার দিয়েছে।
বোলারদের পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করতে গিয়ে বাংলাদেশের পেসারদের প্রশংসা করেন অধিনায়ক। তবে শেষ দিনে স্পিনারদের কাছ থেকে আরও বেশি প্রভাব আশা করেছিলেন তিনি। শান্ত বলেন, ‘আমাদের ফাস্ট বোলাররা খুব ভালো কাজ করেছে। আশা করেছিলাম শেষ দিনে স্পিনাররা খেলায় আরও বড় ভূমিকা রাখবে। তারা চেষ্টাও করেছে, তবে আফগান ব্যাটাররা দারুণভাবে সামাল দিয়েছে।
হতাশার ম্যাচেও বাংলাদেশের বড় প্রাপ্তি লিটন দাসের পারফরম্যান্স। দুই ইনিংসে ৫৩ ও ১০২ রান করে মোট ১৫৫ রান করেছেন তিনি। পাশাপাশি উইকেটের পেছনে ৯টি ডিসমিসাল করে ম্যাচসেরা হয়েছেন লিটন।
লিটনের প্রশংসা করে শান্ত বলেন, লিটন যেভাবে খেলেছে তা অবিশ্বাস্য। কেবল এই ম্যাচেই নয়, গত কয়েক বছর ধরেই ও উইকেটের পেছনে দারুণ করছে। এমন প্রচণ্ড গরমে টানা ১৪০ ওভার কিপিং করা বড় মানসিক দৃঢ়তার পরিচয় দেয়।
আফগানিস্তান দ্বিতীয় ইনিংস- সেদিকুল্লাহ আতাল ১১১, রহমত শাহ ৫১, কায়েস আহমেদ ৪৯*, হাশমতউল্লাহ শহীদি ৩৬, আফসার জাজাই আলীখিল ৩৩। বাংলাদেশের হয়ে ইবাদত হোসেন ৩/৫০, মেহেদী হাসান মিরাজ ৩/৭৩, হাসান মাহমুদ ১/৬৬ ও তাইজুল ইসলাম ১/১১২।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
বাংলাদেশ: ৩৪৬ ও ৩৭২/৭ (ঘোষণা)
আফগানিস্তান: ২৪০ ও ৩৪৬/৮ (১৪২ ওভার)
ফল: টেস্ট ড্র