প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:১৭ পিএম
সংগৃহীত ছবি২৯ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর উদ্ধার করা হয়েছে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে। আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটে পুলিশি পাহারায় ক্যাম্পাস থেকে তাকে বের করে আনা হয়।
এ সময় ভুয়া ভুয়া স্লোগান দেন শিক্ষার্থীরা।
ভিসিকে উদ্ধারের সময় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক (ডিসি) জাহিদুল ইসলাম ও পুলিশ সুপার (এসপি) মাসুদ আলম উপস্থিত ছিলেন। এ সময় ভিসির সঙ্গে অবরুদ্ধ থাকা অন্যরাও মুক্ত হন।
গত সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে প্রশাসনিক ভবনের তালা ভেঙে ভবনে প্রবেশ করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম।
সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে চলমান আন্দোলনের মধ্যে শিক্ষার্থীদের বাধার মুখে পড়েন তিনি। পরে শিক্ষার্থীরা উপাচার্যকে ভবন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য সময়সীমা বেঁধে দেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি ভবন ত্যাগ না করায় শিক্ষার্থীরা বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন এবং ভবনে তালা দেন। এতে উপাচার্যসহ সেখানে অবস্থানরত ব্যক্তিরা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন।
গত ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর প্রতিবাদে এবং সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবিতে ২২ সেপ্টেম্বর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে শাটডাউন কর্মসূচি শুরু হয়। শিক্ষক সমিতি, কর্মকর্তা সমিতি ও কর্মচারীদের কর্মবিরতির পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে আন্দোলনে যোগ দেন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে।
দীর্ঘদিন ধরে চলা আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন।
অন্যদিকে, শিক্ষক সমিতিও দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়। সংকট নিরসনে বিভিন্ন মহল থেকে উদ্যোগের দাবি উঠলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের অচলাবস্থা কাটেনি।
এ অবস্থায় উপাচার্যের অবরুদ্ধ হওয়ার ঘটনায় পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে ওঠে। পরে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও সিভিল সার্জনের উপস্থিতিতে উপাচার্যসহ অবরুদ্ধ ব্যক্তিরা মুক্ত হন।
তবে উপাচার্যকে মুক্ত করার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান অচলাবস্থা নিরসনে কোনো সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানা যায়নি।