ছবি: এএফপি নেপালের মধ্যাঞ্চলের গোর্খা জেলায় আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে জনপ্রিয় মানাসলু ট্রেকিং রুটে শতাধিক পর্যটক আটকা পড়েছেন। তাদের মধ্যে ৯ জন বাংলাদেশি রয়েছেন। বন্যায় সেতু, সড়ক ও ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হওয়ায় পর্যটকদের চলাচল ব্যাহত হয়েছে। আটকে পড়া বাংলাদেশিরা নিরাপদে থাকলেও বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং খাবারের সরবরাহ কমে আসছে।
আল জাজিরা ও তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
মানাসলু সংরক্ষণ এলাকা প্রকল্পের কর্মকর্তা ভুবন রাজ ওঝা জানান, বন্যায় ট্রেকিং পথের কিছু অংশ পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। ফলে পর্যটকদের চলাচল বন্ধ রয়েছে। যাঁরা ফিরে যেতে চান, তাদের উদ্ধারের প্রক্রিয়া চলছে। আর যারা ট্রেকিং চালিয়ে যেতে চান, তাদের নিরাপদ স্থানে অবস্থান করতে বলা হয়েছে। পথের পাশের রেস্তোরাঁ ও চায়ের দোকানগুলোকে পর্যটকদের আশ্রয়ের জন্য নিরাপদ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
নেপালের জাতীয় দুর্যোগ কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গত রোববার ভোরে কাঠমান্ডু থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার পশ্চিমে গোর্খা জেলায় বড় ধরনের ভূমিধসে বুড়ি গণ্ডকী নদীর প্রবাহ আটকে যায়। এর ফলে আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। কালো কাদামাটি ও ধ্বংসাবশেষের স্রোতে নদীতীরের দুই শতাধিক বাড়িঘর ভেসে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত হয় তিনটি জলবিদ্যুৎকেন্দ্রসহ বিভিন্ন অবকাঠামো। এ ঘটনায় অন্তত পাচজন গ্রামবাসী নিখোজ রয়েছেন। এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
নদীর পানির উচ্চতা কিছুটা কমে আসায় উদ্ধার অভিযান জোরদার করেছে নেপালের সেনাবাহিনী। ইতিমধ্যে ১২ জন বিদেশিসহ ৩২১ জনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে গোর্খা জেলার জগৎ গ্রামে ৯ জন বাংলাদেশি ট্রেকার আটকা পড়ে আছেন বলে আনাদোলুর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
আটকে পড়া বাংলাদেশি ট্রেকার মো. শাহাদাত হোসেন আনাদোলুকে বলেন, তাদের হেলিকপ্টারে সরিয়ে নেওয়া হতে পারে বলে তারা আশা করছেন।
তিনি বলেন, গতকাল থেকে আমরা জগতে আটকা পড়ে আছি। গ্রামের ওপরের দিক থেকে আকস্মিক বন্যার পানি নেমে এসে গ্রামের নিচের অংশ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।
শাহাদাত আরও বলেন, আমরা নিরাপদে আছি। তবে গতকাল থেকে বিদ্যুৎ নেই। বাইরের বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। খাবারের সরবরাহও ধীরে ধীরে কমে আসছে।
এদিকে, গোর্খা জেলার কর্তৃপক্ষ বুড়ি গণ্ডকী নদীর ভাটিতে দুই তীরের বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। জাতীয় দুর্যোগ কর্তৃপক্ষ গোর্খা, তানাহুন, চিতওয়ান, পূর্ব নাওয়ালপারাসি ও পশ্চিম নাওয়ালপারাসি জেলার নদীতীরবর্তী বাসিন্দাদেরও বন্যার বিষয়ে সতর্ক করেছে।
বুড়ি গণ্ডকী নদী ত্রিশূলী নদীর একটি উপনদী। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এর ভাটিতে থাকা আরেকটি উপনদীতে গত আগস্টে হিমবাহ ধসের পর ভয়াবহ বন্যা হয়েছিল। ওই দুর্যোগে এক হাজার ৪৫৭ জনের মৃত্যু হয় এবং এখনো হাজারো মানুষ নিখোজ রয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।