প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:২৯ পিএম
ছবি: যাযাদিএকসময় প্রিয়জনের সঙ্গে যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম ছিল চিঠি। ডাকপিয়নের অপেক্ষা, খামের ভাজে প্রিয় মানুষের হাতের লেখা আর চিঠি পাওয়ার আনন্দের সঙ্গে জড়িয়ে ছিল নানা আবেগ ও স্মৃতি। সময়ের পরিবর্তনে হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জারসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহার বাড়ায় চিঠি লেখার প্রচলন কমেছে। নতুন প্রজন্মের কাছে চিঠি লেখার সেই ঐতিহ্য ও অনুভূতি তুলে ধরতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) আয়োজন করা হয়েছে দিনব্যাপী চিঠি উৎসব।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিশ্ব ডাক দিবস উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একাডেমিক ভবনের সামনে বাংলাদেশ ডাক বিভাগের উদ্যোগে এ উৎসব ও ডাকটিকিট প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। উৎসবে শিক্ষার্থীরা বিনামূল্যে চিঠি লিখে প্রিয়জনের কাছে পাঠানোর সুযোগ পাচ্ছেন।
উৎসবে মাকে চিঠি লিখে নব্বইয়ের দশকের অনুভূতি খুজে পেয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফাহিমা ইসলাম। তিনি বলেন, আমরা কখনো এভাবে চিঠি লিখিনি। আজ মাকে চিঠি লিখে মনে হচ্ছে, যেন নব্বইয়ের দশকে ফিরে গেছি। এ সংস্কৃতি ফিরে আসা উচিত। অন্তত বিভিন্ন দিবস উপলক্ষে হলেও চিঠি লেখার প্রচলন ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী আব্দুস সবুর বলেন, চিঠি লিখে নিজের ভেতরে লুকিয়ে থাকা সুপ্ত অনুভূতিগুলো প্রকাশ করতে পারছি, যা আগে কখনো প্রকাশ করা হয়নি। অনেক সময় মুখে মনের কথা বলা যায় না। চিঠির মাধ্যমে অনুভূতি প্রকাশের আলাদা আনন্দ রয়েছে। তাই এ ধরনের আয়োজন নিয়মিত করা দরকার।
রাজশাহীর পোস্টমাস্টার জেনারেল আল মাহমুদ বলেন, একসময় মানুষের যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম ছিল ডাক বিভাগ। সময়ের পরিবর্তনে চিঠির জায়গা দখল করেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। চিঠি পাওয়া, খুলে পড়া ও জমিয়ে রাখার যে আনন্দ, তা অনেকটাই হারিয়ে গেছে। নতুন প্রজন্মকে সেই আনন্দের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতেই আমাদের এ আয়োজন। শিক্ষার্থীদের লেখা চিঠি সংগ্রহ করে প্রাপকের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, এ আয়োজনে শিক্ষার্থীরা বিনামূল্যে প্রিয়জনের কাছে চিঠি পাঠাতে পারছেন। পাশাপাশি ডাকটিকিট প্রদর্শনীতে বাংলাদেশের ডাকটিকিটের ইতিহাস, চিঠি প্রকাশের ইতিহাস ও সংগৃহীত চিঠির ঐতিহাসিক নিদর্শন তুলে ধরা হয়েছে।
প্রযুক্তিনির্ভর দ্রুত যোগাযোগের যুগেও চিঠি উৎসব শিক্ষার্থীদের অনুভূতি প্রকাশের ভিন্ন এক অভিজ্ঞতা দিচ্ছে। কাগজ-কলমে লেখা চিঠির মাধ্যমে স্মৃতি, ভালোবাসা ও না-বলা কথা প্রকাশের সুযোগ তৈরি করে নতুন প্রজন্মের কাছে পুরোনো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন আয়োজকেরা।