কয়রায় কমিটি গঠনে রিটার্নিং কর্মকর্তা-প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ

ফরহাদ হোসা্য়ইন, কয়রা

সারাদেশ

খুলনার কয়রা উপজেলার দেয়াড়া পশ্চিমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্কুল ম্যানেজিং কমিটি (এসএমসি) গঠন নিয়ে অনিয়ম ও পক্ষপাতের অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যালয়ের

2026-10-13T10:55:08+06:00
2026-10-13T10:55:08+06:00
মঙ্গলবার ● ১৩ অক্টোবর ২০২৬
২৮ আশ্বিন ১৪৩৩
শিরোনাম:
সারাদেশ
কয়রায় কমিটি গঠনে রিটার্নিং কর্মকর্তা-প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ
ফরহাদ হোসা্য়ইন, কয়রা
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৫৫ এএম  
সংগৃহীত ছবি
খুলনার কয়রা উপজেলার দেয়াড়া পশ্চিমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্কুল ম্যানেজিং কমিটি (এসএমসি) গঠন নিয়ে অনিয়ম ও পক্ষপাতের অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যালয়ের অভিভাবকদের বড় একটি অংশের আপত্তির পরও বিতর্কিত প্রার্থীকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক সদস্য হিসেবে চূড়ান্ত করার অভিযোগ করেছেন স্থানীয় অভিভাবকেরা। তাঁদের দাবি, পছন্দের ব্যক্তিকে সভাপতি করার উদ্দেশ্যে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা শুরু থেকেই নানা পাঁয়তারা চালাচ্ছেন।

বিদ্যালয়ের অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নির্বাচন ছাড়াই অবহিতকরণ সভায় সমঝোতার মাধ্যমে চারজন অভিভাবক সদস্য ও দু'জন বিদ্যুৎসাহী (নারী-পুরুষ) সদস্য মনোনীত করা হয়। পরে যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদেরকে সদস্য হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। ওই সমঝোতা সভায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ক্যাটাগরির একজন সদস্য মনোনয়নের ক্ষেত্রে বিদ্যালয়ের কাছাকাছি বসবাসকারী অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের মধ্য থেকে একজনকে বেছে নেওয়ার পক্ষে মত দেন অভিভাবকেরা। তাঁদের পছন্দের তালিকায় ছিলেন স্থানীয় মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে অবসর নেওয়া মুহাম্মদ আবুল বাসার এবং পার্শ্ববর্তী মাদ্রাসার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আব্দুল ওহাব।

অভিভাবকদের অভিযোগ, তাঁদের মতামত উপেক্ষা করে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. মাসুদ কামাল গোপনে খুলনা শহরে স্থায়ীভাবে পরিবারসহ বসবাসকারী কয়রার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আবুল বাসারের নাম সদস্য হিসেবে সুপারিশ করেন এবং সদস্য হিসেবে চূড়ান্ত অনুমোদন দেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। তবে ওই শিক্ষক দেয়াড়া এলাকার ভোটার হলেও অবসর গ্রহণের পর থেকে খুলনা শহরে বসবাস করছেন এবং ক্যাচমেন্ট এলাকার মধ্যে বর্তমানে তার ঘরবাড়িও নেই বলে দাবি স্থানীয়দের। তাঁকে সভাপতি করে পকেট কমিটি তৈরির লক্ষ্যে শুরু থেকে পরিকল্পিতভাবে কাজ করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ একাধিক অভিভাবকের।

অভিভাবকরা জানান, গোপনে সদস্য করার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসলে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও তৎকালীন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শেখ অহিদুল আলমকে অবগত করা হয়। তাদের হস্তক্ষেপে সদস্য পদ বাতিল করা হয় এবং অন্য দু'জনের আবেদন গ্রহণ করা হয়। তারা আগ্রহী সকল প্রার্থীদের ডেকে সমঝোতার মাধ্যমে মনোনিত করার পরামর্শ দেন এবং সমঝোতা না হলে আগ্রহী প্রার্থীদের নাম রেজুলেশন করে উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার নির্দেশনা দেন।

মোহাম্মদ আবুল বাসারের অভিযোগ, সমঝোতা সভায় ঐকমত্য না হলেও একতরফাভাবে অন্যজনের নাম সুপারিশ করা হয়। প্রথম সভায় প্রধান শিক্ষকের পছন্দের প্রার্থী অনুপস্থিত থাকায় সভা স্থগিত করা হয়। পরবর্তী সভায় একজন প্রার্থী সরে দাঁড়ালেও তিনি অনঢ় ছিলেন। দুই আগ্রহী প্রার্থীর নাম উল্লেখ করে রেজুলেশন পাঠানোর সিদ্ধান্ত হলেও শেষ পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তাঁর পছন্দের প্রার্থী সেই আবুল বাসারের নাম সুপারিশ করেন। এ ঘটনায় রেজুলেশন নিয়ে প্রশ্ন তুলে ২০ জুলাই রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে আবেদন করেন মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে অবসরপ্রাপ্ত  মুহাম্মদ আবুল বাসার। এছাড়া ২৩ জুলাই ৫৭ জন অভিভাবক রিটার্নিং অফিসারের কাছে তার পক্ষে আবেদন করেন।

 তাঁদের আবেদনে বলা হয়, খুলনায় বসবাসরত আবুল বাসারের পরিবর্তে বিদ্যালয়ের নিয়মিত তদারকি, শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়ন ও অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগের স্বার্থে বিদ্যালয়ের কাছাকাছি বসবাসকারী অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষককে সদস্য করা প্রয়োজন।

একপর্যায়ে গত ৪ সেপ্টেম্বর সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মৃন্ময় কুমার মণ্ডল বিদ্যালয়ে গিয়ে অভিভাবকদের আবেদনের সত্যতা বিষয়ে তদন্ত করেন। উপস্থিত প্রায় ৬৫ জন অভিভাবকের সঙ্গে কথা বলা হয়। বিদ্যালয়ের কাছাকাছি বসবাসকারী অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষককে অর্থাৎ মুহাম্মদ আবুল বাসারকে সদস্য করার পক্ষে মত দেন বলে  সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দাবি। তদন্তকারী কর্মকর্তা মৃন্ময় কুমার অভিভাবকদের আবেদনের সত্যতা পেলেও তা উপেক্ষা করে সেই বিতর্কিত রেজুলেশনের সুপারিশের ভিত্তিতে প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে অবসরপ্রাপ্ত আবুল বাসারকে চূড়ান্ত করেন। এছাড়া গত ৭ অক্টোবর সভাপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। এতে অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

মনোনীত বিদ্যুৎসাহী ও অভিভাবক তরিকুল ইসলাম বলেন, শুরু থেকেই ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও রিটার্নিং অফিসার পক্ষপাতমূলক আচরণ করছেন। ৩/৪ জন করে অভিভাবক নিয়ে আলাদা আলাদা কথা বলে মতামত নেওয়ার পরেও তাঁদের দাবি উপেক্ষা করা হয়েছে। পূর্বের ভুয়া রেজুলেশন বহাল রাখার ইচ্ছা থাকলে তদন্তের নামে ধোঁকাবাজি করার কোন দরকার ছিল না।  

তিনি আরও বলেন, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তার পছন্দের ব্যক্তিকে সভাপতি করার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে। অবসরগ্রহণের পর থেকে যিনি একশ' কিলোমিটার দূরবর্তী শহরে স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে বসবাস করছেন তাকে ডেকে আনা হয়েছে। বিদ্যালয়টি শুরু থেকে নিজের আওতায় রেখে ফাঁকিবাজি করে চলছে। আবারো সেভাবে ফাঁকিবাজি করার জন্য পাঁয়তারা চালাচ্ছেন। আর তাকে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করেছেন সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মৃন্ময় কুমার মন্ডল।

মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে অবসরপ্রাপ্ত মুহাম্মাদ আবুল বাসার বলেন, “প্রধান শিক্ষক শুরু থেকেই অনিয়ম করে চলেছেন। আমার আবেদনের রিসিভ কপি চেয়েও পাইনি। রেজুলেশন আমাকে দেখানো হয়নি। এদিকে, ভুয়া রেজুলেশনের বিষয়ে আমার অভিযোগ আমলে নেননি রিটার্নিং কর্মকর্তা; এমনকি আবেদনের তদন্তও করেননি। তিনি নীতিমালার নির্দেশনা ও অভিভাবকদের মতামত উপেক্ষা করে খামখেয়ালিভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। নীতিমালায় প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষককে অগ্রাধিকারের কথা উল্লেখ না থাকলেও তিনি প্রধান শিক্ষককে নির্দেশনা দিয়ে পক্ষপাতিত্ব করেন।

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, সমঝোতা সভায় আমি অন্য কোনো প্রার্থীকে সমর্থন করিনি। অথচ একজনের নাম সুপারিশ করা হয়েছে।  অভিভাবকদের সমর্থনের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আমাকে চূড়ান্ত করার দাবি জানাচ্ছি।”

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. মাসুদ কামাল বলেন, “এটিও স্যার (রিটার্নিং অফিসার) প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষককে নেওয়ার বিষয়ে নির্দেশনা দেন। তার নির্দেশনা অনুযায়ী আমি সুপারিশ পাঠালে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আবুল বাসারের নাম চূড়ান্ত করা হয়। তিনি খুলনায় বসবাস করলেও এখন থেকে এলাকায় থাকবেন বলে জানান। তবে পরবর্তীতে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা স্যারের নির্দেশে আরও দু'জনের আবেদন গ্রহণ করি। তিনজনকে নিয়ে সমঝোতার চেষ্টা করা হয়েছিল। একজন প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে প্রাথমিকের আবুল বাসারকে সমর্থন দেন। তবে মাধ্যমিকের মুহাম্মাদ আবুল বাসার কাউকে সমর্থন না করে অনঢ় ছিলেন। পরে প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আবুল বাসারের নাম সুপারিশ করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জমা দিই।”

রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মৃন্ময় কুমার মণ্ডল বলেন, “ অভিভাবকদের আবেদনের বিষয়টি তদন্ত যেয়ে সত্যতা পাই। তাদের দাবি ছিল বিদ্যালয়ের নিকটবর্তী বসবাসকারী একজনকে নেয়া হোক। অধিকাংশ অভিভাবকরা নিকটবর্তী বসবাসকারীকে চান।কেউ কেউ সরাসরি মাধ্যমিকের মুহাম্মদ আবুল বাসারের নাম প্রস্তাব করেন।তবে প্রধান শিক্ষকের পাঠানো সুপারিশকৃত রেজুলেশনের ভিত্তিতে চূড়ান্ত করা হয়; রেজুলেশন উপেক্ষা করা সম্ভব হয়নি।

তদন্তে অভিভাবকদের মতামতকে উপেক্ষা করার বিষয়ে তিনি নিকটবর্তী একজনকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক হিসেবে মনোনিত করার দাবির বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, অভিভাবকদের তো প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ ছিল না।
  বিষয়:   কয়রা  রিটার্নিং কর্মকর্তা  শিক্ষক 


সারাদেশ- এর আরোও খরব 
সম্পাদক ও প্রকাশক : শফিক রেহমান
অফিস:
যায়যায়দিন মিডিয়াপ্লেক্স
৪৪৬ ই+এফ+জি তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল, ঢাকা ১২০৮
ইমেইল : [email protected]
বিভাগীয় ফোন:
অনলাইন নিউজ- ০১৩৩৫১০৭৭০১, ০১৫৭২১৭৩৭৭৭
বিজ্ঞাপন বিভাগ- ০১৯১২২৯২৩১৩, ০১৭১১১৭৫৩৩১
সার্কুলেশন বিভাগ- ০১৭১২৩৮০৩২৫, ০১৮৩৪৮০০৮৭৭
© ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত