ছবি-যাযাদি নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার বিরিশিরী ইউনিয়নের কাপাসাঠিয়া বাজারে মেয়াদোত্তীর্ণ কীটনাশক বিক্রির অভিযোগ উঠেছে ‘আল আমিন স্টোর’-এর স্বত্বাধিকারী ও সাব-ডিলার আব্দুল হামিদের বিরুদ্ধে। এসব কীটনাশক ব্যবহারে একাধিক কৃষকের ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কৃষকরা। তাঁদের দাবি, মেয়াদোত্তীর্ণ কীটনাশক জব্দ এবং দোকানমালিককে শোকজ করার পরও পরবর্তী ব্যবস্থা সম্পর্কে তাঁরা স্পষ্ট কোনো তথ্য পাননি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত ১৬ আগস্ট মেয়াদোত্তীর্ণ কীটনাশকসহ আব্দুল হামিদকে হাতেনাতে আটক করেন এলাকাবাসী। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান দুর্গাপুর উপজেলা কৃষি অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রায়হানুল হক। পরে তিনি দোকান থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ কীটনাশক জব্দ করেন। তবে জব্দ ও শোকজের পর কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
এ ঘটনার প্রতিকার ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে গত আগস্ট মাসে উপজেলা পরিষদ চত্বরে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন এলাকাবাসী। মানববন্ধন থেকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।
মানববন্ধনে ভুক্তভোগী হিসেবে মো. মাসুম মিয়া, মজিবুর রহমান, মরম আলী, মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, মো. রতন মিয়া, মোহাম্মদ আলালাল ফকির, মোহাম্মদ কুদ্দুস মিয়া, মো. রুবেল মিয়া, মোহাম্মদ ওয়াহেদ আলী ও মোহাম্মদ রশিদ মিয়াসহ স্থানীয় আরও কয়েকজন অভিযোগ করেন, মেয়াদোত্তীর্ণ কীটনাশক ব্যবহারের কারণে তাঁদের ফসলের ক্ষতি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানোর পরও ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ কিংবা অভিযোগের ভিত্তিতে গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে তাঁরা বিস্তারিত জানতে পারেননি। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করে তাঁরা ন্যায়বিচার ও যথাযথ প্রতিকার দাবি করেন।
স্থানীয় কৃষকদের আরও অভিযোগ, এর আগেও ওই সাব-ডিলারের বিরুদ্ধে মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রির অভিযোগ উঠেছিল। তাঁদের প্রশ্ন, বারবার এমন অভিযোগ সামনে আসার পরও কীটনাশক বিক্রির কার্যক্রম যথাযথভাবে তদারকি করা হচ্ছে কি না। কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে দোকানটির স্বত্বাধিকারী আব্দুল হামিদের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাঁর ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে দুর্গাপুর উপজেলা কৃষি অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রায়হানুল হক জানান, ওই দোকান থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ কিছু কীটনাশক পাওয়া গেছে। পরবর্তী সময়ে সেগুলো ধ্বংস করা হয় এবং দোকানমালিককে শোকজ করা হয়। পাশাপাশি এ ধরনের পণ্য বিক্রি না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে শোকজের বাইরে আর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না এবং কৃষকদের ফসলের ক্ষতির অভিযোগ তদন্ত করে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে এখনো স্পষ্ট তথ্য চান স্থানীয়রা।
কৃষকদের দাবি, শুধু মেয়াদোত্তীর্ণ কীটনাশক জব্দ ও শোকজের মধ্যেই যেন বিষয়টি সীমাবদ্ধ না থাকে। অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ এবং প্রমাণ সাপেক্ষে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে কৃষকদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট কৃষি বিভাগ ও প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।