ডেপুটি স্পিকারের উদ্যোগে, দুর্গাপুরে পর্যটন হাব গড়তে মহাপরিকল্পনা

দুর্গাপুর (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি

সারাদেশ

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা সীমান্তবর্তী পাহাড়ি জনপদ নেত্রকোনার দুর্গাপুর। সোমেশ্বরী নদী, বিজয়পুরের সাদামাটির পাহাড়, গারো পাহাড়ের নৈসর্গিক দৃশ্য, রানীখং মিশন, বিরিশিরির

2026-10-12T11:08:39+06:00
2026-10-12T11:08:39+06:00
সোমবার ● ১২ অক্টোবর ২০২৬
২৭ আশ্বিন ১৪৩৩
শিরোনাম:
সারাদেশ
ডেপুটি স্পিকারের উদ্যোগে, দুর্গাপুরে পর্যটন হাব গড়তে মহাপরিকল্পনা
দুর্গাপুর (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:০৮ এএম  
সংগৃহীত ছবি
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা সীমান্তবর্তী পাহাড়ি জনপদ নেত্রকোনার দুর্গাপুর। সোমেশ্বরী নদী, বিজয়পুরের সাদামাটির পাহাড়, গারো পাহাড়ের নৈসর্গিক দৃশ্য, রানীখং মিশন, বিরিশিরির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যসহ নানা দর্শনীয় স্থানের টানে প্রতিবছর এখানে ছুটে আসেন বিভিন্ন এলাকার পর্যটকেরা। এবার এ সৌন্দর্যকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলা, পর্যটকদের যাতায়াত সহজ করা এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে গতিশীল করার লক্ষ্যে দুর্গাপুরকে পর্যটন হাব হিসেবে গড়ে তোলার সম্ভাবনা সামনে এসেছে।

নেত্রকোনা-১ (দুর্গাপুর-কলমাকান্দা) আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের উদ্যোগে এ অঞ্চলের পর্যটন সম্ভাবনা বিকাশের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এতে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন দুর্গাপুর ও কলমাকান্দায় আধুনিক পর্যটন মডেল স্থাপনের সম্ভাবনা যাচাইসহ এর প্রয়োজনীয় তথ্য ও মতামত চেয়ে নেত্রকোনার জেলা প্রশাসকের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে।

পর্যটন করপোরেশনের পরিচালক (বাণিজ্যিক) মো. গনী উল আজম স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে নেত্রকোনার জেলা প্রশাসকের কাছে এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন চাওয়া হয়েছে। চিঠিতে প্রস্তাবিত পর্যটনকেন্দ্রের স্থান নির্বাচন, আশপাশের দর্শনীয় স্থানের বিবরণ, পর্যটন অবকাঠামো নির্মাণের সম্ভাবনা, পর্যটকদের আগমনের পরিসংখ্যান এবং প্রকল্পের আর্থিক ও অর্থনৈতিক কার্যকারিতা যাচাইয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নযোগ্য বিবেচিত হলে উপযুক্ত স্থানে ন্যূনতম ২০ একর জমি নির্বাচনের বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে।

দুর্গাপুর ও কলমাকান্দর সীমান্ত এলাকায় পরিকল্পিত পর্যটন হাব হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হলে, স্থানীয় তরুণদের কর্মসংস্থান, ক্ষুদ্র ব্যবসার প্রসার এবং এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হতে পারে। পর্যটকদের জন্য পরিচ্ছন্ন বিশ্রামাগার, নিরাপদ পার্কিং, পর্যটন তথ্যকেন্দ্র, প্রশিক্ষিত গাইড, মানসম্মত খাবার ও স্থানীয় হস্তশিল্পের দোকান স্থাপন করা হলে পর্যটনসেবা আরও উন্নত হবে।

একই সঙ্গে সোমেশ্বরী নদী, সাদামাটির পাহাড় ও প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণ এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি। পরিবেশবান্ধব পরিকল্পনার মাধ্যমে পর্যটন বিকাশ ঘটানো গেলে এর সুফল দীর্ঘমেয়াদে স্থানীয় মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারে।

এ নিয়ে ডঃ অঞ্জন চিচাম বিরিশিরি কালচারাল একাডেমির পরিচালক বলেন, দুর্গাপুর সীমান্তে পর্যটনের হাব হিসেবে গড়ে তোলা হলে অত্র এলাকার চেহারাই পাল্টে যাবে। সেইসাথে সীমান্ত এলাকার কোন যুবক হাতগুটিয়ে কর্মহীন অবস্থায় বসে থাকবে না। জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা- ১ আসনের এমপি ব্যারিস্টার কায়সার যে কথায় নয় কাজে বিশ্বাসী তা আবারো প্রমান করলেন তিনি। অত্র এলাকায় পর্যটন হাব স্থাপন হলে, এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ঐতিহাসিক নিদর্শন, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য এবং যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়নের সম্ভাবনা সবকিছু মিলিয়ে দুর্গাপুর পর্যটন বিকাশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি জনপদ। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের উদ্যোগে পর্যটন উন্নয়নের প্রস্তাব সামনে আসায় স্থানীয় মানুষের মধ্যেও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।

এখন প্রয়োজন সম্ভাব্যতা যাচাই, উপযুক্ত স্থান ও জমি নির্বাচন, পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন এবং বাস্তবসম্মত উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ। প্রস্তাবিত উদ্যোগগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হলে সীমান্তের পাহাড়ি জনপদ দুর্গাপুর ভবিষ্যতে দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন গন্তব্য হিসেবে আরও পরিচিতি লাভ করবে। দেশের মানুষ নতুন ভাবে দুর্গাপুর কে চিনতে পারবে এমনটাই প্রত্যাশা সকল শ্রেনী পেশার মানুষের।

বিপিডিবির চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজাউল করিম বলেন, সরকারের লক্ষ্য অর্জনে ২০২৮ সালের মধ্যে প্রতি কিলোওয়াট-ঘণ্টায় ৯ টাকা ১২ পয়সা দরে ৯১৮ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ১২টি স্বতন্ত্র বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের (আইপিপি) সঙ্গে চুক্তি করেছে বিপিডিবি।

তিনি বলেন, ‘নিজস্ব অর্থায়নে গ্রিড-সংযুক্ত ৬৮৯ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার বিভিন্ন প্রকল্পও হাতে নেওয়া হয়েছে। এসব প্রকল্প ২০৩০ সালের মধ্যে চালু হওয়ার কথা রয়েছে।’

সৌরবিদ্যুৎ দেশের জ্বালানি উৎসের বৈচিত্র্য বাড়ানো, জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জীবাশ্ম জ্বালানির দামের ওঠানামার ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত ও পরিবেশদূষণ কমাতে বাংলাদেশ নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্প্রসারণে কাজ করছে।

সরকার নতুন বাণিজ্যিক, শিল্প ও সরকারি ভবনে বাধ্যতামূলকভাবে ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপনের শর্ত কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করেছে। বিশেষ করে, যেসব স্থাপনার বৈদ্যুতিক লোড ১০ কিলোওয়াটের বেশি, সেগুলোর ক্ষেত্রে এ শর্তের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় কমাতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে স্বল্পসুদে অর্থায়ন চালুর জন্য উৎসাহিত করা প্রয়োজন। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা এবং শহরের আবাসিক গ্রাহকদের জন্য এ ধরনের অর্থায়ন কার্যকর হতে পারে।

তবে প্রতি ইউনিটে ৫-৬ টাকা সাশ্রয়ের যে হিসাব দেওয়া হচ্ছে, তা সংশ্লিষ্ট বিদ্যুতের ট্যারিফ এবং সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন ও পরিচালনার মোট ব্যয়ের সঙ্গে তুলনা করে মূল্যায়ন করতে হবে।

চলতি অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকির পরিমাণ ৪০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। সৌর, বায়ু ও বর্জ্যভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়িয়ে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুতের ২০ শতাংশ এবং ২০৫০ সালের মধ্যে ৩০-৫০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সূত্র: বাসস
  বিষয়:   ডেপুটি স্পিকার  দুর্গাপুর  মহাপরিকল্পনা 


সারাদেশ- এর আরোও খরব 
সম্পাদক ও প্রকাশক : শফিক রেহমান
অফিস:
যায়যায়দিন মিডিয়াপ্লেক্স
৪৪৬ ই+এফ+জি তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল, ঢাকা ১২০৮
ইমেইল : [email protected]
বিভাগীয় ফোন:
অনলাইন নিউজ- ০১৩৩৫১০৭৭০১, ০১৫৭২১৭৩৭৭৭
বিজ্ঞাপন বিভাগ- ০১৯১২২৯২৩১৩, ০১৭১১১৭৫৩৩১
সার্কুলেশন বিভাগ- ০১৭১২৩৮০৩২৫, ০১৮৩৪৮০০৮৭৭
© ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত